ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ‘সিল’ করার নির্দেশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের আগের ও পরের কয়েকদিন উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সম্পূর্ণ ‘সিল’ করে রাখা হবে। এই সময়ে রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই ক্যাম্পের বাইরে এসে কোনো রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতে না পারে কিংবা তাদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার সুযোগ কেউ না পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সর্বোচ্চ সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। রোববার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।

নির্বাচন কমিশনার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান, একটি অর্থবহ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এখন থেকেই যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য থাকবে তিনটি—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী আচরণবিধির যেকোনো ধরনের ব্যত্যয় বা বড় বড় লঙ্ঘন কঠোরভাবে মোকাবিলা করা। সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন যে, এবারের নির্বাচনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ক্ষুব্ধ হবেন, তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গায়ের জোর খাটিয়ে ভোটের মাঠে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।

সভায় ইসি সানাউল্লাহ আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচনের সফলতার ওপরই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলা এবং আগামী দিনের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই নির্বাচন ভালো করতে না পারলে সবাইকে এর মাশুল দিতে হবে।” তাই কেবল নামমাত্র নির্বাচন নয়, বরং একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কক্সবাজারের উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে ভোটের শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ‘সিল’ করার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০২:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের আগের ও পরের কয়েকদিন উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সম্পূর্ণ ‘সিল’ করে রাখা হবে। এই সময়ে রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই ক্যাম্পের বাইরে এসে কোনো রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতে না পারে কিংবা তাদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার সুযোগ কেউ না পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সর্বোচ্চ সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। রোববার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।

নির্বাচন কমিশনার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান, একটি অর্থবহ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এখন থেকেই যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হবে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য থাকবে তিনটি—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী আচরণবিধির যেকোনো ধরনের ব্যত্যয় বা বড় বড় লঙ্ঘন কঠোরভাবে মোকাবিলা করা। সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন যে, এবারের নির্বাচনে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ক্ষুব্ধ হবেন, তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, গায়ের জোর খাটিয়ে ভোটের মাঠে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।

সভায় ইসি সানাউল্লাহ আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচনের সফলতার ওপরই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলা এবং আগামী দিনের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই নির্বাচন ভালো করতে না পারলে সবাইকে এর মাশুল দিতে হবে।” তাই কেবল নামমাত্র নির্বাচন নয়, বরং একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কক্সবাজারের উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে ভোটের শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়।