ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া কাটবে না রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: বিশ্লেষকদের শঙ্কার নতুন সমীকরণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে, তখন এক গভীর আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আসন্ন এই নির্বাচন যদি সত্যিকার অর্থে অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ না হয়, তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। রবিবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী এই সময়ে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, একটি রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হলো জাতীয় সংসদ। আর এই সংসদ তখনই কার্যকর হয় যখন তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করা সম্ভব নয়। তার মতে, জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ছাড়া গঠিত কোনো কাঠামোই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা দিতে পারে না।

অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘বহুমাত্রিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে বহিরাগত ভূ-রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, দেশ যদি একটি ‘ম্যানেজড’ বা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে ধাবিত হয়, তবে তা সংকট নিরসনের বদলে আরও বড় বিপদের পথ তৈরি করবে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে।

আলোচকেরা একমত হয়েছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র রক্ষাকবচ হলো কার্যকর গণতন্ত্র। আর সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হলো এমন একটি নির্বাচন, যেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতি ছাড়া কোনো দেশই বহিরাগত হস্তক্ষেপ বা অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। তাই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের কারচুপি বা জবরদস্তির পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া কাটবে না রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি: বিশ্লেষকদের শঙ্কার নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে, তখন এক গভীর আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আসন্ন এই নির্বাচন যদি সত্যিকার অর্থে অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ না হয়, তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। রবিবার রাজধানীতে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী এই সময়ে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, একটি রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হলো জাতীয় সংসদ। আর এই সংসদ তখনই কার্যকর হয় যখন তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করা সম্ভব নয়। তার মতে, জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ছাড়া গঠিত কোনো কাঠামোই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা দিতে পারে না।

অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘বহুমাত্রিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে বহিরাগত ভূ-রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, দেশ যদি একটি ‘ম্যানেজড’ বা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে ধাবিত হয়, তবে তা সংকট নিরসনের বদলে আরও বড় বিপদের পথ তৈরি করবে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে।

আলোচকেরা একমত হয়েছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র রক্ষাকবচ হলো কার্যকর গণতন্ত্র। আর সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হলো এমন একটি নির্বাচন, যেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক সংহতি ছাড়া কোনো দেশই বহিরাগত হস্তক্ষেপ বা অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। তাই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের কারচুপি বা জবরদস্তির পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।