ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং সাড়ে ৯ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

দুদক জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে ৩১ জন আসামি থাকলেও অধিকতর তদন্ত শেষে চার্জশিটে আসামির সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত চলাকালে দুজন আসামি— ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক এফএভিপি ও ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং আলফা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন— আরামিট লিমিটেডের উৎপল পাল, কর্মচারী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, মো. সুমন, ড্রাইভার ইলিয়াস তালুকদার, তার ভাই ওসমান তালুকদার, হুন্ডি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহিদ ও মো. শহীদ। 

চার্জশিটে প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এ ছাড়া তার স্ত্রী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবির ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. সবুর, সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামানের নাম রয়েছে। পাশাপাশি ইউসিবির পোর্ট শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, সাবেক শাখা প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ চৌধুরী, সাবেক ক্রেডিট অফিসার জিয়াউল করিম খান, সাবেক এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন, আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরাও আসামি তালিকায় রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের ইউসিবি পোর্ট শাখা থেকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামক একটি অস্তিত্বহীন কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটি এই ঋণের বিপরীতে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪৪৮তম সভায় তা অনুমোদন দেয়। 

প্রকৃতপক্ষে, ভিশন ট্রেডিং ছিল একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান, যার মালিক সাজানো হয়েছিল সাইফুজ্জামানের এক কর্মচারীকে। ঋণের অর্থ পরবর্তীতে আলফা ট্রেডিং ও ক্লাসিক ট্রেডিং নামক আরও কয়েকটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অন্তত ৯ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। 

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিগগিরই এই চার্জশিট সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ডেমরায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের, আহত একাধিক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং সাড়ে ৯ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

দুদক জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে ৩১ জন আসামি থাকলেও অধিকতর তদন্ত শেষে চার্জশিটে আসামির সংখ্যা বেড়ে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত চলাকালে দুজন আসামি— ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক এফএভিপি ও ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং আলফা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা যাওয়ায় তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন— আরামিট লিমিটেডের উৎপল পাল, কর্মচারী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, মো. সুমন, ড্রাইভার ইলিয়াস তালুকদার, তার ভাই ওসমান তালুকদার, হুন্ডি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহিদ ও মো. শহীদ। 

চার্জশিটে প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এ ছাড়া তার স্ত্রী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবির ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ. সবুর, সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামানের নাম রয়েছে। পাশাপাশি ইউসিবির পোর্ট শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, সাবেক শাখা প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ চৌধুরী, সাবেক ক্রেডিট অফিসার জিয়াউল করিম খান, সাবেক এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন, আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরাও আসামি তালিকায় রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের ইউসিবি পোর্ট শাখা থেকে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামক একটি অস্তিত্বহীন কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটি এই ঋণের বিপরীতে ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দিলেও তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪৪৮তম সভায় তা অনুমোদন দেয়। 

প্রকৃতপক্ষে, ভিশন ট্রেডিং ছিল একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান, যার মালিক সাজানো হয়েছিল সাইফুজ্জামানের এক কর্মচারীকে। ঋণের অর্থ পরবর্তীতে আলফা ট্রেডিং ও ক্লাসিক ট্রেডিং নামক আরও কয়েকটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অন্তত ৯ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। 

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিগগিরই এই চার্জশিট সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।