দেশে খাদ্যের সংকট হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেছেন, বর্তমান খাদ্য মজুদ অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং বিগত পাঁচ বছরের তুলনায় বর্তমানে খাদ্য মজুদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে দেশের খাদ্য মজুত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্য উপদেষ্টা জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি খাদ্যগুদামে মোট ২০ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত ছিল। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৩৩ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন গম এবং ৯৭ হাজার ৪০৯ মেট্রিক টন ধান রয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশে বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন। বাকি গম আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়। আর চালের সিংহভাগই দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিছু পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়েছে এবং আরও কিছু চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
চলতি বছরে চাল আমদানির পরিমাণ কত হতে পারে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, “এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে তা বলা সম্ভব নয়। আরও কয়েক মাস পরে এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া যাবে।” তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমদানির পরিমাণ কম হবে বলে আশা করছেন তিনি।
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এখনও বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ভারত থেকে বাংলাদেশ চাল আমদানি করে এবং তারাও চাল বিক্রি করে। এটিকে রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। বাজার ব্যবস্থার ভিত্তিতেই এই লেনদেন হয়। যেখানে প্রয়োজন, সেখান থেকেই পণ্য সংগ্রহ করা হয়।”
খাদ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “গতবছর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। তবে চলতি বছর সরকারের ভালো প্রস্তুতির কারণে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে।”
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি নেই। নির্দিষ্ট সময়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
রিপোর্টারের নাম 

























