আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়ার পর অনেকের মনেই জন্ম দিচ্ছে একটি প্রশ্ন। তাকে যে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা দলে নিলো সেটার কী হবে?
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত মাসের আইপিএল মিনি নিলামে চেন্নাই সুপার কিংসকে টপকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কাটার মাস্টারকে দলে নেয় কেকেআর। আইপিএলে কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য এটিই ছিল সর্বোচ্চ মূল্য। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ৩০ বছর বয়সী এই পেসারকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ায় তার ওই অর্থের কোনও অংশ পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আইপিএলের নিলামসংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, মোস্তাফিজুরের ঘটনা ফোর্স ম্যাজিউর ধারার আওতায় পড়ে। এই ধারা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির কারণে চুক্তির শর্ত পূরণ সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ফলে কেকেআর চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধে বাধ্য নয়।
এই কারণে মোস্তাফিজুরের বিষয়টি ব্যতিক্রমী। চোট বা খেলোয়াড়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ানোর কারণে নয় বরং কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রেক্ষাপটে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আইপিএল নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি হওয়ার পর কোনও খেলোয়াড় নিজ থেকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাকে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এবং পারিশ্রমিক থেকেও বঞ্চিত করা হয়। যেমন ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের ব্যাটার হ্যারি ব্রুক আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোয় দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন। একইভাবে নিলামের পর চোটে পড়ে কোনও ম্যাচ না খেললে সেই খেলোয়াড়ও কোনও পারিশ্রমিক পান না। কিন্তু মোস্তাফিজুরের বিষয়টি এসব ক্যাটাগরিতেই পড়ে না। তিনি খেলতে প্রস্তুত ছিলেন, নিজে থেকে সরে দাঁড়াননি এবং চোটগ্রস্তও নন। বরং বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর তাকে মুক্ত করে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























