বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিশেষ আদালতে তুলেছে পুলিশ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে হবিগঞ্জের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে আদালত বসিয়ে জামিন শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার।
তিনি বলেন, একটি মামলায় মাহদী হাসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে সেটি কীসের মামলা তা আমাদের জানানো হয়নি এখনও। রাত ১২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সেখানে জামিন শুনানি হবে। তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন বলে আশাবাদী আমরা। জামিন হলে পরবর্তী সময়ে মাহদীকে নিয়ে বিজয় মিছিল করা হবে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিবি পুলিশ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে মাহদী হাসানকে আটক করেছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম। তবে পুলিশ এখনও জানায়নি মাহদীকে কোন মামলায় আটক করা হয়েছে।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে তার মুক্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানার সামনে সেনাবাহিনী অবস্থান নেয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থানার সামনে অবস্থান করছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় এসেছিলেন মাহদী হাসান। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত সদর মডেল থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন। এ সময় সেখানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এস এম রাসেল, ফয়সল আমিন ও মির কাদের।
বক্তারা বলেন, এ দেশে হাদি হত্যাকারী গ্রেফতার হয় না। অথচ ভুলবশত একটি উচ্চারণের কারণে জুলাই আন্দোলনের একজন সৈনিককে পুলিশ আটক করেছে। জুলাই আন্দোলন না হলে এই সরকার ক্ষমতায় বসতে পারতো না। অথচ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জুলাই আন্দোলনকে ছোট করে দেখা হচ্ছে।
মাহদীকে পুলিশ না ছাড়া পর্যন্ত থানার সামনে অবস্থান করবেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এনামুলকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মুক্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন। তখন ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই ভিডিওতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের উদ্দেশে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?’
একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’
খবর পেয়ে বিকাল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তার মধ্যস্থতায় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 
























