ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের হারিয়েছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট এখনও রহস্যময়। এই কঠিন উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হবে—তা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো দলই! এক ম্যাচ হাতে রেখেই আজ মঙ্গলবার ২-০ তে সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নামার আগে, বাংলাদেশের ব্যাটাররা কৌশল আয়ত্ত করতে সোমবার দীর্ঘ সময় উইকেটে কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে এই ম্যাচ জিতে সিরিজে টিকে থাকতে। ম্যাচটি শুরু হবে আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এবং দেখা যাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি-তে।

প্রথম ওয়ানডেতে দুই দল মিলে ৮৮.৪ ওভারে যে মাত্র ৩৪০ রান তুলেছে, তাতেই এই উইকেটের কঠিন প্রকৃতি স্পষ্ট। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে কিছু কৌশল শিখে ফেলেছে। তবে, একটি বিষয় নিশ্চিত যে বাংলাদেশ আবারও স্পিন আক্রমণের কৌশল অবলম্বন করবে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই ওয়ানডে স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে। সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি ৫ উইকেট নিয়েছিলেন, যা তাঁকে ওই সিরিজের দ্বিতীয় সফল বোলার বানিয়েছিল। তাঁকে সহায়তা করবেন তানভীর ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নেওয়া রিশাদ হোসেন। বিপরীতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজও স্পিনে শক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার আকিল হোসেনকে দলে যুক্ত করেছে। সঙ্গে বাঁহাতি পেসার র‌্যামন সাইমন্ডসকেও যুক্ত করা হয়েছে।

এত কিছুর পরেও ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ মাত্র ২০৭ রান তুলেছিল। হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন কেবল তাওহীদ হৃদয়। নতুন মুখ মাহিদুল ইসলামও ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও, পুরো ইনিংসজুড়েই বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল মন্থর, যেখানে ডট বলের সংখ্যা ছিল বেশি এবং বাউন্ডারি ছিল কম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজও তাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে মরিয়া। প্রথম ম্যাচে তারা মাত্র ১৩৩ রানেই অলআউট হয়ে গিয়েছিল। স্পিনারদের বিরুদ্ধে ব্র্যান্ডন কিং ও আলিক আথানেজ আক্রমণাত্মক ছিলেন, কিন্তু দুজনেই রিশাদের ফাঁদে পড়েন। এরপরই তাদের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। অভিজ্ঞ শাই হোপ বা রোস্টন চেজও তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

এই পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে টিকে থাকতে হলে আবারও বোলারদের ভূমিকা নিতে হবে। জেইডেন সিলস নিয়েছেন তিন উইকেট। পাঁচ বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা খ্যারি পিয়েরে ভালো বোলিং করলেও পেয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। তবে মিরপুরের স্পিনবান্ধব কন্ডিশনে মূল দায়িত্ব নিতে হবে রোস্টন চেজ ও গুডাকেশ মোটিকে।

সব মিলিয়ে মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজই সামান্য এগিয়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সাফল্যে ব্যবধানটা অনেকটাই কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। দুই দল মোট ৪৮ বার মুখোমুখি হয়েছে—এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ২৪ ম্যাচ, আর বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ২২টি। বাকি দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। অর্থাৎ জয়-পরাজয়ের ব্যবধান এখন মাত্র ২ ম্যাচের।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভরাডুবি: ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হওয়ার ঝুঁকিতে শ্রীলঙ্কা, সাঙ্গাকারার কড়া হুঁশিয়ারি

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের হারিয়েছে বাংলাদেশ।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট এখনও রহস্যময়। এই কঠিন উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হবে—তা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো দলই! এক ম্যাচ হাতে রেখেই আজ মঙ্গলবার ২-০ তে সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নামার আগে, বাংলাদেশের ব্যাটাররা কৌশল আয়ত্ত করতে সোমবার দীর্ঘ সময় উইকেটে কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে এই ম্যাচ জিতে সিরিজে টিকে থাকতে। ম্যাচটি শুরু হবে আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এবং দেখা যাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি-তে।

প্রথম ওয়ানডেতে দুই দল মিলে ৮৮.৪ ওভারে যে মাত্র ৩৪০ রান তুলেছে, তাতেই এই উইকেটের কঠিন প্রকৃতি স্পষ্ট। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে কিছু কৌশল শিখে ফেলেছে। তবে, একটি বিষয় নিশ্চিত যে বাংলাদেশ আবারও স্পিন আক্রমণের কৌশল অবলম্বন করবে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই ওয়ানডে স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে। সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি ৫ উইকেট নিয়েছিলেন, যা তাঁকে ওই সিরিজের দ্বিতীয় সফল বোলার বানিয়েছিল। তাঁকে সহায়তা করবেন তানভীর ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নেওয়া রিশাদ হোসেন। বিপরীতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজও স্পিনে শক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার আকিল হোসেনকে দলে যুক্ত করেছে। সঙ্গে বাঁহাতি পেসার র‌্যামন সাইমন্ডসকেও যুক্ত করা হয়েছে।

এত কিছুর পরেও ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ মাত্র ২০৭ রান তুলেছিল। হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন কেবল তাওহীদ হৃদয়। নতুন মুখ মাহিদুল ইসলামও ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও, পুরো ইনিংসজুড়েই বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল মন্থর, যেখানে ডট বলের সংখ্যা ছিল বেশি এবং বাউন্ডারি ছিল কম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজও তাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে মরিয়া। প্রথম ম্যাচে তারা মাত্র ১৩৩ রানেই অলআউট হয়ে গিয়েছিল। স্পিনারদের বিরুদ্ধে ব্র্যান্ডন কিং ও আলিক আথানেজ আক্রমণাত্মক ছিলেন, কিন্তু দুজনেই রিশাদের ফাঁদে পড়েন। এরপরই তাদের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। অভিজ্ঞ শাই হোপ বা রোস্টন চেজও তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

এই পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে টিকে থাকতে হলে আবারও বোলারদের ভূমিকা নিতে হবে। জেইডেন সিলস নিয়েছেন তিন উইকেট। পাঁচ বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা খ্যারি পিয়েরে ভালো বোলিং করলেও পেয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। তবে মিরপুরের স্পিনবান্ধব কন্ডিশনে মূল দায়িত্ব নিতে হবে রোস্টন চেজ ও গুডাকেশ মোটিকে।

সব মিলিয়ে মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজই সামান্য এগিয়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সাফল্যে ব্যবধানটা অনেকটাই কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। দুই দল মোট ৪৮ বার মুখোমুখি হয়েছে—এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ২৪ ম্যাচ, আর বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ২২টি। বাকি দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। অর্থাৎ জয়-পরাজয়ের ব্যবধান এখন মাত্র ২ ম্যাচের।