দীর্ঘ চার বছর পর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সফর এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তিনি হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইতে স্বাক্ষর করেন এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেগম জিয়ার অনবদ্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। এই সফরের মাধ্যমে রাজনাথ সিং কেবল শ্রদ্ধা নিবেদনই করেননি, বরং সম্প্রতি হাইকমিশনকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দূতাবাসের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও দিল্লির পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঝটিকা ঢাকা সফর এবং এর পরপরই রাজনাথ সিংয়ের হাইকমিশনে যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছিল, তা উত্তরণে ভারত এখন বিশেষ সচেষ্ট। বিশেষ করে জয়শঙ্করের সফরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো চিঠিটি সম্পর্কের গুণগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। চিঠিতে মোদি বেগম জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বদানকারী ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের এই কূটনীতিক তৎপরতা মূলত ‘বিজয়ীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া’র কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জয়শঙ্কর তাঁর ঢাকা সফরে স্পষ্ট করেছেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে জয়ী হয়ে যারাই ক্ষমতায় আসুক, ভারত তাদের সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ। এছাড়া তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় ২০০১-২০০৪ মেয়াদে বিএনপি ও বিজেপি সরকারের মধ্যকার ইতিবাচক কাজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে। জয়শঙ্কর স্বীকার করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত সমস্যা থাকলেও আলোচনার মাধ্যমেই তা সমাধান করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্কর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে সম্পর্কের এই টানাপোড়েন কতটা কমবে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
রিপোর্টারের নাম 



















