ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জয়শঙ্কর ও আইয়াজের ঢাকা সফর: ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীনদের পাশে থাকার ইঙ্গিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং তাঁর প্রয়াণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক কূটনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত বুধবার জানাজার প্রাক্কালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পৃথক সাক্ষাৎকে বিশেষজ্ঞরা নিছক কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন এবং পাকিস্তানের স্পিকার সে দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই দুই প্রতিবেশী দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সঙ্গে দেশগুলো সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে আগ্রহী।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে তার বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত শোকবার্তা হস্তান্তর এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি জয়শঙ্করের আস্থাজ্ঞাপন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে পাকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরের মতে, বিশ্বনেতারা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সাথে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের গোপন বৈঠকের খবরটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত এখন কেবল একক কোনো দলের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সব শক্তিশালী রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করছে।

অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুমের মতো বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছে। ভারত যেমন নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে, তেমনি পাকিস্তানও এই সুযোগে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে আনতে চাইছে। ভৌগোলিক বাস্তবতায় আগামীতে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ এবং জামায়াত আমিরের ‘ডিপ্লোম্যাসি টু’ বা গোপনীয় কূটনীতি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এখন থেকেই বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং পরবর্তী স্থায়ী সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এক মাসেই ৯ বার কাঁপল বাংলাদেশ: ঘন ঘন ভূমিকম্পে বাড়ছে উদ্বেগ, প্রস্তুতিতে জোরের তাগিদ

জয়শঙ্কর ও আইয়াজের ঢাকা সফর: ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীনদের পাশে থাকার ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ১০:১৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং তাঁর প্রয়াণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক কূটনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত বুধবার জানাজার প্রাক্কালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পৃথক সাক্ষাৎকে বিশেষজ্ঞরা নিছক কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন এবং পাকিস্তানের স্পিকার সে দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই দুই প্রতিবেশী দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সঙ্গে দেশগুলো সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে আগ্রহী।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে তার বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত শোকবার্তা হস্তান্তর এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি জয়শঙ্করের আস্থাজ্ঞাপন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে পাকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবিরের মতে, বিশ্বনেতারা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সাথে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের গোপন বৈঠকের খবরটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত এখন কেবল একক কোনো দলের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সব শক্তিশালী রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করছে।

অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুমের মতো বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলছে। ভারত যেমন নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে, তেমনি পাকিস্তানও এই সুযোগে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে আনতে চাইছে। ভৌগোলিক বাস্তবতায় আগামীতে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ এবং জামায়াত আমিরের ‘ডিপ্লোম্যাসি টু’ বা গোপনীয় কূটনীতি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এখন থেকেই বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং পরবর্তী স্থায়ী সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।