দীর্ঘ দুই দশকের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানা এবং পরবর্তী সময়ে সামাজিক ও পারিবারিক সমালোচনার মুখে পড়া নিয়ে প্রথমবারের মতো খোলামেলা কথা বললেন বলিউড আইকন মালাইকা আরোরা। ২০১৭ সালে আরবাজ খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর যে মানসিক লড়াই তাকে লড়তে হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি ‘নিজেকে ভালোবাসা’ এবং ‘নিজের সুখকে’ প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে সিঙ্গল থাকলেও ভালোবাসা কিংবা বিয়ের ওপর থেকে তার আস্থা হারিয়ে যায়নি বলে জানান এই ফিটনেস কুইন।

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও স্টাইল আইকন মালাইকা আরোরা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার ব্যক্তিজীবনের অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। অভিনেতা আরবাজ খানের সঙ্গে দীর্ঘ ১৯ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানার পর যে কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে, তা নিয়ে নিজের উপলব্ধি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
মালাইকা জানান, ২০১৭ সালে যখন তিনি আরবাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন, তখন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসা তীব্র নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেন, “শুধু সাধারণ মানুষই নয়, আমার নিজের কাছের বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরাও আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। সবাই আমাকে বিচার করতে শুরু করেছিল এবং আমার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।” সেই সময়টা মানসিকভাবে প্রচণ্ড অস্থিরতার ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
বিচ্ছেদের সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা না থাকলেও নিজের মানসিক শান্তির জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হননি মালাইকা। তার মতে, আমাদের সমাজ আজও নারীদের কাছ থেকে কেবল ত্যাগ আর সমঝোতা আশা করে। মালাইকা বলেন, “অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আমি কীভাবে সবার আগে নিজের সুখের কথা ভাবলাম? কিন্তু আমি জানতাম, ভালো থাকার জন্য আমাকে নিজেকেই বেছে নিতে হবে। আজ সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার মনে কোনো আক্ষেপ নেই।”

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন মালাইকাকে তিক্ত মানুষে পরিণত করেনি। বরং তিনি এখনও ভালোবাসা এবং সম্পর্কের ওপর গভীর আস্থা রাখেন। অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও তিনি ইতিবাচক। মালাইকা বলেন, “আমি আজও বিয়েতে বিশ্বাস করি। তবে তার মানে এই নয় যে আমাকে এখনই বিয়ে করতে হবে। আমি এর পেছনে ছুটছি না, আবার বিয়ের দরজা চিরতরে বন্ধও করে দিইনি। সঠিক সময়ে সঠিক কিছু হলে আমি তা গ্রহণ করব।”
বর্তমানে ২৩ বছর বয়সী সন্তান আরহান খানের জননী মালাইকা নিজেকে একজন আত্মবিশ্বাসী এবং মানসিকভাবে স্থির মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিজের শর্তে জীবন অতিবাহিত করা এই অভিনেত্রী এখন অনেক বেশি শান্ত ও সুখী।
রিপোর্টারের নাম 

























