ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫২ শতাংশ, দাবি জান্তা সরকারের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা জানিয়েছে, দেশটিতে চলমান তিন ধাপের জাতীয় নির্বাচনের প্রথম পর্বে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২ শতাংশের সামান্য বেশি। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে ১০২টি টাউনশিপে ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৫২.১৩ শতাংশ বলে জানিয়েছে জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জাও মিন তুন বলেন, “উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও অনেক সময় ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশ ছাড়ায় না এবং এই হারকে তিনি গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি হচ্ছে গৃহযুদ্ধের মধ্যেই। আর ভোটার উপস্থিতির হার আগের দুই সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে ২০১৫ ও ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।

এই নির্বাচনটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় ভোট। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা।

তবে জাতিসংঘ, কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং ভোট নিয়ে সমালোচনা করা আইনত নিষিদ্ধ।

নির্বাচনের পরবর্তী ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি। এই দুই দফায় মিয়ানমারের ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও, জান্তার সব এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন্স জানিয়েছে, জান্তার নির্ধারিত নির্বাচনি আইনে ন্যূনতম ভোটার উপস্থিতির কোনো শর্ত নেই।

এদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি এখনও আটক রয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিপুল বিজয় অর্জন করলেও সামরিক অভ্যুত্থানের পর দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫২ শতাংশ, দাবি জান্তা সরকারের

আপডেট সময় : ০৩:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা জানিয়েছে, দেশটিতে চলমান তিন ধাপের জাতীয় নির্বাচনের প্রথম পর্বে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫২ শতাংশের সামান্য বেশি। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে ১০২টি টাউনশিপে ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৫২.১৩ শতাংশ বলে জানিয়েছে জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জাও মিন তুন বলেন, “উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও অনেক সময় ভোটার উপস্থিতি ৫০ শতাংশ ছাড়ায় না এবং এই হারকে তিনি গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি হচ্ছে গৃহযুদ্ধের মধ্যেই। আর ভোটার উপস্থিতির হার আগের দুই সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমসের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে ২০১৫ ও ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ।

এই নির্বাচনটি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় ভোট। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা।

তবে জাতিসংঘ, কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং ভোট নিয়ে সমালোচনা করা আইনত নিষিদ্ধ।

নির্বাচনের পরবর্তী ধাপের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি। এই দুই দফায় মিয়ানমারের ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও, জান্তার সব এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন্স জানিয়েছে, জান্তার নির্ধারিত নির্বাচনি আইনে ন্যূনতম ভোটার উপস্থিতির কোনো শর্ত নেই।

এদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি এখনও আটক রয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিপুল বিজয় অর্জন করলেও সামরিক অভ্যুত্থানের পর দলটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।