ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতার বন্ধের আহ্বান শিক্ষক নেটওয়ার্কের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে প্ল্যাটফর্মটির এক বিবৃতিতে এ ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ভূমিকার প্রেক্ষাপটেই শিক্ষক নেটওয়ার্কের এ বিবৃতি আসে। 

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মবপ্রবণতা সৃষ্টি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানিমূলক নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে রাকসুর জিএস ভব্যতার সব সীমা অতিক্রম করে বারবার ঘোষণা দিয়েছেন— লীগপন্থি শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তাদের ‘কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে।’ 

একইসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ঘোষণা করেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও প্রকার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষক ক্লাসে আসতে পারবে না।’ তিনি রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশন উচ্ছেদের আহ্বানও জানান।’ 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

রাকসুর নেতাদের এ ধরনের আচরণকে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তাদের মতে, এর ‘স্পাইরাল ইফেক্ট’ ইতোমধ্যে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়েছে।

শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তরুণ রাজনীতিবিদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণ ও তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সৃষ্ট হতাশাজনক ও বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ক্যাম্পাসে ছাত্রপ্রতিনিধি ও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্যদের উৎপাত এবং এখতিয়ারবহির্ভূত সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীকেও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতাদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে যেভাবে ‘ব্যক্তিগত মতামত’ দেখিয়ে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতার বন্ধের আহ্বান শিক্ষক নেটওয়ার্কের

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে প্ল্যাটফর্মটির এক বিবৃতিতে এ ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের ভূমিকার প্রেক্ষাপটেই শিক্ষক নেটওয়ার্কের এ বিবৃতি আসে। 

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মবপ্রবণতা সৃষ্টি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানিমূলক নানা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে রাকসুর জিএস ভব্যতার সব সীমা অতিক্রম করে বারবার ঘোষণা দিয়েছেন— লীগপন্থি শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তাদের ‘কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে।’ 

একইসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ঘোষণা করেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও প্রকার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষক ক্লাসে আসতে পারবে না।’ তিনি রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশন উচ্ছেদের আহ্বানও জানান।’ 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

রাকসুর নেতাদের এ ধরনের আচরণকে বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তাদের মতে, এর ‘স্পাইরাল ইফেক্ট’ ইতোমধ্যে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়েছে।

শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তরুণ রাজনীতিবিদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণ ও তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সৃষ্ট হতাশাজনক ও বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ক্যাম্পাসে ছাত্রপ্রতিনিধি ও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্যদের উৎপাত এবং এখতিয়ারবহির্ভূত সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীকেও তার অঙ্গসংগঠন ছাত্রশিবিরের নেতাদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের ক্ষেত্রে যেভাবে ‘ব্যক্তিগত মতামত’ দেখিয়ে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।