ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, মূল আসামির স্ত্রীসহ ৬ জন রিমান্ডে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি মাদ্রাসা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ছয় আসামিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন।

আদালত পুরুষ তিন আসামিকে সাত দিন এবং মূল পলাতক আসামি শেখ আল আমিনের স্ত্রীসহ তিন নারী আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। 

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শাহিন ওরফে আবু বকর ওরফে মুসা ওরফে ডিবা সুলতানা, মো. আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন, মো. শাফিয়ার রহমান ফকির, আছিয়া বেগম (পলাতক আসামি আল আমিনের স্ত্রী), ইয়াসমিন আক্তার ও আসমানী খাতুন ওরফে আসমা। 

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “গ্রেফতার আসমানী খাতুন এর আগেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে জেল খেটেছেন। অপর আসামি শাহিনের বিরুদ্ধেও নাশকতার মামলা রয়েছে।” তিনি আদালতকে বলেন, “এতো বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথা থেকে এলো, মাদ্রাসায় অবস্থানরতদের হত্যার পরিকল্পনা ছিল কিনা এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো বড়ো ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্র চলছিল কি না— তা বের করতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।”  

শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম। তিনি দাবি করেন, “আমার স্বামী আল আমিন গত এক বছর ধরে আমার সঙ্গে ছিল না। সে আমাকে নির্যাতন করতো। সে অপরাধ করে থাকতে পারে, কিন্তু আমরা নির্দোষ। আমার ভাইয়ের বউ আসমানী শুধু আমাদের দেখতে এসে গ্রেফতার হয়েছে।” 

এ মামলায় আসমানী খাতুন ছাড়া অন্যান্য আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। আসমানী খাতুনের আইনজীবী আদালতে বলেন, “আগের মামলায় কোনও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেই আসমানী খাতুন খালাস পেয়েছিলেন। এজন্য তার এই মামলায় রিমান্ডে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান নেই। এ ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা নেই।” 

তবে আদালত বিষয়টিকে স্পর্শকাতর মামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটা সেনসিটিভ মামলা, আপনারা তদন্তে সহযোগিতা করবেন। এই ধরনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন আছে।”  

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় শেখ আল আমিনের পরিচালিত ওই মাদ্রাসা ভবনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের দেয়াল ও ছাদের অংশ বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তীতে সিআইডি, অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট ও র‍্যাব টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৯টি তাজা ককটেল, ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক (হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, নাইট্রিক অ্যাসিড, এসিটোন), ল্যাপটপ ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। 

ঘটনার পর থেকেই মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের থানার উপপরিদর্শক ইসলাম লিটন সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো বড়ো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, মূল আসামির স্ত্রীসহ ৬ জন রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৭:২৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি মাদ্রাসা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ছয় আসামিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন।

আদালত পুরুষ তিন আসামিকে সাত দিন এবং মূল পলাতক আসামি শেখ আল আমিনের স্ত্রীসহ তিন নারী আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। 

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শাহিন ওরফে আবু বকর ওরফে মুসা ওরফে ডিবা সুলতানা, মো. আমিনুর ওরফে দর্জি আমিন, মো. শাফিয়ার রহমান ফকির, আছিয়া বেগম (পলাতক আসামি আল আমিনের স্ত্রী), ইয়াসমিন আক্তার ও আসমানী খাতুন ওরফে আসমা। 

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “গ্রেফতার আসমানী খাতুন এর আগেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে জেল খেটেছেন। অপর আসামি শাহিনের বিরুদ্ধেও নাশকতার মামলা রয়েছে।” তিনি আদালতকে বলেন, “এতো বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথা থেকে এলো, মাদ্রাসায় অবস্থানরতদের হত্যার পরিকল্পনা ছিল কিনা এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো বড়ো ধরনের নাশকতার ষড়যন্ত্র চলছিল কি না— তা বের করতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।”  

শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম। তিনি দাবি করেন, “আমার স্বামী আল আমিন গত এক বছর ধরে আমার সঙ্গে ছিল না। সে আমাকে নির্যাতন করতো। সে অপরাধ করে থাকতে পারে, কিন্তু আমরা নির্দোষ। আমার ভাইয়ের বউ আসমানী শুধু আমাদের দেখতে এসে গ্রেফতার হয়েছে।” 

এ মামলায় আসমানী খাতুন ছাড়া অন্যান্য আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। আসমানী খাতুনের আইনজীবী আদালতে বলেন, “আগের মামলায় কোনও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেই আসমানী খাতুন খালাস পেয়েছিলেন। এজন্য তার এই মামলায় রিমান্ডে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান নেই। এ ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা নেই।” 

তবে আদালত বিষয়টিকে স্পর্শকাতর মামলা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটা সেনসিটিভ মামলা, আপনারা তদন্তে সহযোগিতা করবেন। এই ধরনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন আছে।”  

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় শেখ আল আমিনের পরিচালিত ওই মাদ্রাসা ভবনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের দেয়াল ও ছাদের অংশ বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তীতে সিআইডি, অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিট ও র‍্যাব টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৯টি তাজা ককটেল, ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক (হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, নাইট্রিক অ্যাসিড, এসিটোন), ল্যাপটপ ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। 

ঘটনার পর থেকেই মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের থানার উপপরিদর্শক ইসলাম লিটন সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো বড়ো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ।