বেলা গড়িয়ে ঘড়িতে দুপুর বারোটা। তবু সূর্যের দেখা মেলেনি রাজধানী ঢাকায়। তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি সূর্য না ওঠায় শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। একদিকে ঘন কুয়াশা, অন্যদিকে ঠান্ডা বাতাস—দুইয়ে মিলে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের কারণে ভোরে রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসবাসকারী মানুষ শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি কুয়াশার কারণে সকালের দিকে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ায় অফিসগামী সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বেড়েছে।
ভোর ছয়টা থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ শুরু করেন মনোয়ারা। আজ সকালে তীব্র শীতের মধ্যেই কাজে বের হতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, “আরেকটু শীত বাড়লে ভোরবেলা কাজে আসতে পারবো কিনা জানি না। আজ সকাল থেকেই ঠান্ডা পানিতে কাজ করতে গিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
পরিচ্ছন্নতাকর্মী শাহীন জানান, সকালবেলাতেই কাজে বের হয়েছেন তিনি। বলেন, “হালকা কাপড় পরে ময়লা পরিষ্কার করা খুব কষ্টকর। বারবার ঠান্ডা পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হচ্ছে। এতে হাত জমে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বরফের মধ্যে বসে আছি।”
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান রিকশাচালক শহিদুল। তিনি বলেন, “ভোরবেলায় আজ ডিউটি থাকলেও বের হইনি। বেলা বাড়লে সূর্য উঠবে ভেবে বের হয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সূর্য ওঠেনি কুয়াশার কারণে। রিকশা চালাতে গেলে যে ঠান্ডা বাতাস লাগে, তাতে হাত-পা দুটোই জমে যায়। এই কষ্ট দিনে দুই বেলা করা সম্ভব না। তাই দুপুরের পর আর কাজ করবো না বলে ঠিক করেছি। আজ রোজগার কম হলেও কিছু করার নেই। শীতের মধ্যে এত কষ্ট করা যায় না।”
উল্লেখ্য, গত চার দিনে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে। গতকাল ২৭ ডিসেম্বর ছিল ১৪ দশমিক ৫, ২৬ ডিসেম্বর ১৪ দশমিক ৮ এবং ২৫ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রিপোর্টারের নাম 




















