ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

হাদিকে হত্যাচেষ্টা: পিস্তল উদ্ধার, ফয়সালের বাবা–মা গ্রেফতার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত পিস্তল নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের বাবা-মা’সহ তিনজনকে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে র‍্যাব-১০-এর একটি দল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোসা. হাসি বেগম (৬০)। পরে তাদের ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি)-কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এরপর পৃথক অভিযানে র‌্যাব-১১ এর একটি দল নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে পানির মধ্য থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি খেলনা পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে।

ফয়সালের বাবা-মা’সহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাবফয়সালের বাবা-মা’সহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, অনুসন্ধানে জানা যায় বাব-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে শুটার ফয়সাল তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন মোসা. জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন।

ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে বাসার পাশে কালো ব্যাগটি ফেলে দেন এবং ভাগনে জামিল (১৮)-কে দিয়ে সেটি আবার নিয়ে আসেন। তিনি তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি ওই বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অপরটি তার মা মোসা. হাসি বেগমকে দেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, পরে শুটার ফয়সাল তার বাবা–মার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় যান। এ সময় তার বাবা একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং কিছু টাকাও দেন।

পরে শুটার ফয়সাল ও তার বাবা–মা ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের কেরাণীগঞ্জের বাসায় যান এবং জুরাইন এলাকা থেকে মোবাইল ফোনের দুটি সিম কিনে ব্যবহার করেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের কোনোটি দিয়ে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো বর্তমানে র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে।

শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, হামলাকারী দুই আততায়ীর একজন সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম তার সঙ্গেই কিছুদিন ধরে নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে। ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর এলাকার নেতা ছিলেন বলেও জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ: সিপিডি’র মতে, ঘুরে দাঁড়াতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন

হাদিকে হত্যাচেষ্টা: পিস্তল উদ্ধার, ফয়সালের বাবা–মা গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০২:৪৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত পিস্তল নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। একইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেহভাজন শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের বাবা-মা’সহ তিনজনকে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে র‍্যাব-১০-এর একটি দল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা মোসা. হাসি বেগম (৬০)। পরে তাদের ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি)-কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এরপর পৃথক অভিযানে র‌্যাব-১১ এর একটি দল নরসিংদী জেলার সদর থানাধীন তরুয়া এলাকার মোল্লার বাড়ির সামনে তরুয়ার বিলে পানির মধ্য থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি খেলনা পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে।

ফয়সালের বাবা-মা’সহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাবফয়সালের বাবা-মা’সহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, অনুসন্ধানে জানা যায় বাব-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে শুটার ফয়সাল তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন মোসা. জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন।

ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে বাসার পাশে কালো ব্যাগটি ফেলে দেন এবং ভাগনে জামিল (১৮)-কে দিয়ে সেটি আবার নিয়ে আসেন। তিনি তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি ওই বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অপরটি তার মা মোসা. হাসি বেগমকে দেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, পরে শুটার ফয়সাল তার বাবা–মার সঙ্গে দেখা করেন। এরপর আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে শাহজাদপুরে চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় যান। এ সময় তার বাবা একটি সিএনজি ভাড়া করে দেন এবং কিছু টাকাও দেন।

পরে শুটার ফয়সাল ও তার বাবা–মা ছোট ছেলে হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের কেরাণীগঞ্জের বাসায় যান এবং জুরাইন এলাকা থেকে মোবাইল ফোনের দুটি সিম কিনে ব্যবহার করেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের কোনোটি দিয়ে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো বর্তমানে র‍্যাবের হেফাজতে রয়েছে।

শরীফ ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, হামলাকারী দুই আততায়ীর একজন সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম তার সঙ্গেই কিছুদিন ধরে নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে। ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর এলাকার নেতা ছিলেন বলেও জানা গেছে।