ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলাকারীর সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনও তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রবিবারর (১৪ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন থেকেই হামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে হামলাকারী বা মোটরসাইকেল চালক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে গেছে—এমন কোনও তথ্য পুলিশের কাছে নেই।
হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে তিনি জানান, পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে এবং কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
হামলায় জড়িত দুইজনের মধ্যে কাউকে শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তালেবুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তেও কাজ চলছে।
হামলার পেছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ বা নির্দিষ্ট মোটিভ রয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন ওসমান হাদিকে টার্গেট করা হয়েছে এবং কেন ওই সময়টিই বেছে নেওয়া হয়েছে—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অন্য প্রার্থীরা আতঙ্কগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি অবশ্যই দুঃখজনক। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার করে র্যাব পল্টন থানায় হস্তান্তর করেছে। দ্রুত হামলাকারীদের বিষয়ে তথ্য পেতে সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হাদিকে কেন হত্যার উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হলো এবং এই সময়েই কেন—তা তদন্তের আওতায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ‘টার্গেট কিলিং’-এর আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
রিপোর্টারের নাম 























