বেকারত্ব বৃদ্ধি, দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মবনির্ভর প্রবণতাকে দেশের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শুধু পরিসংখ্যান নয়, কাঠামোগত সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
- বেকারত্ব ও বাস্তবতা: সিজিএস-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি তরুণ সমাজ হলেও শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে। বিএনপির ড. আব্দুল মঈন খান অবশ্য ৪.৩৬ শতাংশ বেকারত্বের হারকে বড় সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ, তবে স্বীকার করেন যে শুধু শতাংশের ভিত্তিতে বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র বোঝা যায় না।
- অর্থনৈতিক দুর্বলতা: অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ বলেন, প্রবাস আয় ও তৈরি পোশাক খাত যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলো বিকশিত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থানের সামঞ্জস্য না থাকায় শিক্ষিত বেকার বাড়ছে এবং স্কিল মিসম্যাচ প্রকট হচ্ছে।
- দক্ষতা ও অবকাঠামো: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামরুল আহসান সমস্যার মূলে চাকরির অভাব নয়, বরং দক্ষতার অভাবকে দায়ী করেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী জ্বালানি সংকট ও শিল্প খাতে দক্ষ জনশক্তির অভাবকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
- রাজনৈতিক ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ: গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া বিনিয়োগ আসবে না বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন যে দীর্ঘদিনের কোটাব্যবস্থা কাঠামোগত বৈষম্য তৈরি করেছে। সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী জানান, প্রতিবছর সাত লাখ গ্র্যাজুয়েট শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও চাকরি পাচ্ছে মাত্র এক লাখ। এই বাস্তবতা থেকেই টেকসই কর্মসংস্থান কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























