ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বি‌রো‌ধের জে‌রে শ্যামবাজারে ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়: র‌্যাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বি‌রো‌ধের জে‌রে রাজধানীর শ্যামবাজারে ব্যবসায়ী আবদুর রহমান হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানা‌নো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি এমামুল এহসান নয়ন এবং তার সহযোগী অয়ন গাঙ্গুলী পলাশকে ‌গ্রেফতার করে র‍্যাব-১০ ও র‍্যাব-৪। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশি রিভলভার, তাজা কার্তুজ ও ফায়ার করা কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ব‌লেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে মাওলাবক্স চক্ষু হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে মসলা ব্যবসায়ী ও শ্যামবাজার কাঁচাবাজার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরে রাত ১০টা ৫ মিনিটে র‍্যাব-১০ এর একটি দল র‍্যাব-৪ এর সহযোগিতায় কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়ন ও পলাশকে ‌গ্রেফতার করে।

নয়নের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কদমতলীর শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও হত্যায় ব্যবহৃত দুটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা ব‌লেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নয়ন একজন ব্যবসায়ী এবং ‘রহমত উল্লাহ গ্রুপে’র চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সে আবদুর রহমানের মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকায় শ্যামবাজার কাঁচাবাজারের একটি দোকান কেনে। কিন্তু দোকান হস্তান্তরের সময় আবদুর রহমান অতিরিক্ত ২৪ লাখ টাকা দাবি করায় তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। এর পরেই আবদুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে নয়ন। গত সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি বিদেশি রিভলভার কেনে এবং হত্যার পর পালিয়ে নেপালে যাওয়ার জন্য অন-অ্যারাইভ্যাল ভিসার আবেদন করে। এমনকি ১৩ ডিসেম্বর ঢাকা-কাঠমুন্ডু ফ্লাইটের টিকিটও বুকিং করেছিল নয়ন।

র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, ঘটনার দিন সকালে নয়ন তার শ্যালক পলাশের সঙ্গে পোস্তগলায় দেখা করে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবদুর রহমান মাওলাবক্সের গলি দিয়ে দোকানে যাওয়ার সময় নয়ন পথরোধ করে প্রথমে বুকে গুলি করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মাথায় আরও একটি গুলি করে পালিয়ে যায়। প্রথমে তারা নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে মিরপুর-১০ হয়ে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে পালানোর চেষ্টা করে। তখন তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব।

গ্রেফতার ব্যক্তি‌দের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

বি‌রো‌ধের জে‌রে শ্যামবাজারে ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়: র‌্যাব

আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

বি‌রো‌ধের জে‌রে রাজধানীর শ্যামবাজারে ব্যবসায়ী আবদুর রহমান হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানা‌নো হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি এমামুল এহসান নয়ন এবং তার সহযোগী অয়ন গাঙ্গুলী পলাশকে ‌গ্রেফতার করে র‍্যাব-১০ ও র‍্যাব-৪। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশি রিভলভার, তাজা কার্তুজ ও ফায়ার করা কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ব‌লেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে মাওলাবক্স চক্ষু হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে মসলা ব্যবসায়ী ও শ্যামবাজার কাঁচাবাজার মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হলে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। পরে রাত ১০টা ৫ মিনিটে র‍্যাব-১০ এর একটি দল র‍্যাব-৪ এর সহযোগিতায় কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়ন ও পলাশকে ‌গ্রেফতার করে।

নয়নের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কদমতলীর শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও হত্যায় ব্যবহৃত দুটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা ব‌লেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নয়ন একজন ব্যবসায়ী এবং ‘রহমত উল্লাহ গ্রুপে’র চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সে আবদুর রহমানের মাধ্যমে ৬০ লাখ টাকায় শ্যামবাজার কাঁচাবাজারের একটি দোকান কেনে। কিন্তু দোকান হস্তান্তরের সময় আবদুর রহমান অতিরিক্ত ২৪ লাখ টাকা দাবি করায় তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। এর পরেই আবদুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে নয়ন। গত সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি বিদেশি রিভলভার কেনে এবং হত্যার পর পালিয়ে নেপালে যাওয়ার জন্য অন-অ্যারাইভ্যাল ভিসার আবেদন করে। এমনকি ১৩ ডিসেম্বর ঢাকা-কাঠমুন্ডু ফ্লাইটের টিকিটও বুকিং করেছিল নয়ন।

র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, ঘটনার দিন সকালে নয়ন তার শ্যালক পলাশের সঙ্গে পোস্তগলায় দেখা করে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবদুর রহমান মাওলাবক্সের গলি দিয়ে দোকানে যাওয়ার সময় নয়ন পথরোধ করে প্রথমে বুকে গুলি করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মাথায় আরও একটি গুলি করে পালিয়ে যায়। প্রথমে তারা নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে মিরপুর-১০ হয়ে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে পালানোর চেষ্টা করে। তখন তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব।

গ্রেফতার ব্যক্তি‌দের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।