বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারের ৪-৫ জন উপদেষ্টা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের বিভিন্ন অপকর্মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও রেকর্ড জামায়াতের কাছে রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সংশোধন না হলে জনসমক্ষে তাদের নাম প্রকাশ করে দেবো।” তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি জানতে পারে তারা ‘জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বেইমানি করছেন’, তাহলে তাদের অবস্থা ‘পতিত ফ্যাসিবাদের চেয়েও খারাপ হবে’।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’, ‘পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন’ এবং ‘জাতীয় পার্টিসহ চৌদ্দ দলের বিচার’-এর দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. তাহের অভিযোগ করেন যে দেশে নীলনকশার নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে এবং ২০১৮ ও ২০১৪ সালের মতো কোনো নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “আমরা মনে করেছিলাম ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর আমাদের আর রাজপথে নামতে হবে না। কিন্তু একটি দল জুলাইকে দলীয় দৃষ্টিতে বিবেচনা করে এর চেতনাকে ধারণ করতে চায় না। তারা যেনতেনভাবে নির্বাচন চায় এবং প্রশাসনকে দলীয়করণ করতে চায়। এতে সরকারের কিছু উপদেষ্টাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “আপনি ভালো মানুষ। অনেকে বলে আপনি সরল ও সোজা, প্যাঁচ বুঝেন না। আমরা বলবো আপনার আশপাশের সবাই ভালো মানুষ নয়। আপনার কাছের কিছু লোক আপনাকে বিভ্রান্ত ও ব্যবহার করছে। তাদের সরান। না হয় জনগণ সরিয়ে দেবে।” তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হাসিনা ১৬ বছর টিকে ছিল। আর এভাবে চললে আপনারা কয়েক মিনিটও টিকতে পারবেন না।”
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ডা. তাহের বলেন, একটি দল মুখে সংস্কারের কথা বললেও ঐকমত্য কমিশনে প্যাঁচ লাগিয়ে দিচ্ছে। সংস্কারের দাবি না মানলে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে। তিনি গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানালেও কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার কথা বলছে, যা সম্ভব নয়। তিনি যুক্তি দেন, “বাংলাদেশে দুটি গণভোট ২১ ও ১৭ দিনে হয়েছে। তাই গণভোট নভেম্বরের ১৫ তারিখে করা যায়। এটিকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।”
ডা. তাহের বলেন, দাবি আদায়ের জন্য যা যা দরকার, জামায়াত তাই করবে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। তিনি বিএনপিকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও তোলেন।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটি এম মাছুম বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির পরই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একটি দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে এবং ভারসাম্য নেই। তিনি বিগত দিনের ‘খুনি, লুটেরা ও অর্থ পাচারকারীদের’ বিচার এবং জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলেরও বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগে সংস্কার করতে হবে। পুরাতন সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে পিআর পদ্ধতিতে ভোট দিতে হবে, যাতে সবার ভোটের মূল্যায়ন হয়।”
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশ নতুন পরিচয় পেয়েছে এবং এই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। তিনি সংস্কার, বিচারসহ ৫টি মৌলিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশে আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না।”
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক জামায়াতের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুল ও উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় এতে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটি এম মাছুম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত ও দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। জামায়াত জানায়, এই একই কর্মসূচি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরও ৭টি দল রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে পালন করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















