দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে জীবনযাপনও যেন প্রতিদিনই নতুন সংজ্ঞা পাচ্ছে। ফ্যাশন থেকে ফিটনেস, খাবার থেকে মানসিক স্বাস্থ্য, সবকিছুর দৃষ্টিভঙ্গিতেই পরিবর্তন আনছে তরুণ প্রজন্ম। কেবল ট্রেন্ড অনুসরণ নয়, বরং ট্রেন্ড তৈরি করার মধ্যেই তারা খুঁজে নিচ্ছে নিজের পরিচয়। ২০২৫ সালে আমাদের জীবনকে ঘিরে কী কী নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, বছর শেষে তারই একটি ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা ছিলো এই ফিচারে—
মানসিক স্বাস্থ্যের নতুন দর্শন
এখন আর ‘হ্যাপি’ মানে কেবল হাসিখুশি থাকা নয়; মানে হলো নিজেকে বোঝা, নিজেকে সময় দেওয়া। এখন জার্নালিং ও মুড ট্র্যাকিং অ্যাপ তরুণদের আত্মবিশ্লেষণের হাতিয়ার।
‘নিজের প্রতি দায়বদ্ধতা’—এই নতুন দর্শনেই তৈরি হচ্ছে নতুন জীবনযাপনের ভাষা।
‘ফ্যাশন’ এখন নিজের স্বাক্ষর
ফ্যাশনে ২০২৫-এর সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড, ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। ওভারসাইজ কুর্তা, বুটকাট প্যান্ট, টাই-ডাই আবার ফিরছে।জেন-জেড ধারায় সাস্টেইনেবল ফ্যাশন—‘কম কিনো, কিন্তু ভালো কিনো’।
থ্রিফট স্টোর ও রেন্টেড আউটফিট এখন ট্রেন্ডি সামাজিক স্টেটমেন্ট।
ঘর যখন কফিশপের আরাম
ইনস্টাগ্রামে গেলেই বোঝা যায়—সবাই যেন এখন নিজের ঘরকেই বানাচ্ছে ছোট্ট একটি ক্যাফে। হ্যান্ড-ব্রিউড কফি, ম্যাচা লাটে বা ডার্ক কোকো—সবই এখন ঘরের রান্নাঘরে।
বাইরে অতিথিপরায়ণতার বদলে এখন জনপ্রিয় হয়েছে ‘টাইনি গ্যাদারিং’—সীমিত, কিন্তু স্মরণীয় আয়োজন।
ছোট ছোট ছুটি
বাজেট-ফ্রেন্ডলি ও মানসিকভাবে শান্তিময় ‘মাইক্রো ট্রাভেল’ এখন বেশ জনপ্রিয়। ঢাকার বাইরে ২–৩ দিনের ছোট বিরতি অনেকের জন্য মানসিক প্রশান্তি। প্রাকৃতিক জায়গায় গ্ল্যাম্পিং, স্থানীয় খাবার চেখে দেখা—বছরের নতুন অভিজ্ঞতা।
ভ্রমণ মানে এখন, নিজেকে রিসেট করা।
শুধু জিম নয়
২০২৫-এর ওয়েলনেস ট্রেন্ড শারীরিক ব্যায়ামের সঙ্গে যুক্ত করেছে মানসিক ও সৃজনশীল ভারসাম্য। যোগব্যায়াম, পিলাটিস এবং ব্রেথিং টেকনিক শহুরে জীবনে জনপ্রিয়। হোম ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি লাইভ স্টুডিও ক্লাসে অংশ নেওয়া এখন অভ্যাস।
ফিটনেস ট্র্যাকার ও স্মার্ট স্বাস্থ্য-ডিভাইস তরুণদের সবসময় সচেতন রাখছে।
নিজেকে প্রকাশের নতুন মাধ্যম
রিল, স্টোরি, ভ্লগ—এখন ব্যক্তি-পরিচয়ের শক্তিশালী মাধ্যম। অনেকে শখ থেকে শুরু করে পেশাগত কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে নিজের ব্র্যান্ডে পরিণত করছেন। ‘এআই-অ্যাসিস্টেড’ সৃজনশীল কাজ (ডিজাইন, মিউজিক, স্ক্রিপ্ট) এখন তরুণদের বড় খেলাঘর।
সামাজিক মাধ্যমে ‘অনুপ্রেরণার চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা’—এই নতুন ভারসাম্যই আলাদা করছে ২০২৫-কে।
বলা দরকার
২০২৫-এর লাইফস্টাইল ট্রেন্ডগুলো একটাই বার্তা দেয়, নিজের জীবনটা আসলে অন্যদের চেয়ে ভালো দেখানোর জন্য নয়, বরং নিজের মতো করে সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য। তরুণরা তাই ট্রেন্ডকে আর অনুসরণ করছে না; বরং ট্রেন্ড তাদের জীবনযাপনকে অনুসরণ করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























