মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:৫২ অপরাহ্ন | ৫ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ২০শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

২৩ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি, পর্তুগালকে বিদায় বললেন রোনালদো

  • হালনাগাদ সময় : ০৫:৫০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

একটি জার্সি, একটি দেশ আর অসংখ্য অর্জনের ইতিহাস—জাতীয় দলের সেই লাল-সবুজ পোশাকে আর দেখা যাবে না ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। পর্তুগালের হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান। এর মাধ্যমে পর্তুগিজ ফুটবলের এক স্বর্ণালি যুগের অবসান ঘটল।

বিদায়ী বার্তায় রোনালদোর কণ্ঠে ছিল গভীর আবেগ ও দীর্ঘ পথচলার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় দলের আইকনিক ৭ নম্বর জার্সিকে বিদায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সময় এসেছে। আমি কখনোই এটাকে কেবল আমার একার সম্পদ মনে করিনি। তবে গত ২৩ বছর ধরে এই জার্সি পরার পরম সৌভাগ্য ও গুরুদায়িত্ব আমার ওপর ছিল। পর্তুগাল সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।’

পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালেই দেখা যায় পর্তুগালের ফুটবলে রোনালদোর অবদান কতটা অতুলনীয়। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে রেকর্ড ১৪৬টি গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলের বিশ্ব রেকর্ড দুটিই এখন তার দখলে। কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, পর্তুগালকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ শক্তিতে পরিণত করতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে।

রোনালদোর অধিনায়কত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। এরপর ২০১৯ সালে তার হাত ধরেই আসে উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি। জাতীয় দলের ট্রফি ক্যাবিনেটে দুটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা যোগ করার গৌরব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন এই কিংবদন্তি।

বিদায়ের মাহেন্দ্রক্ষণটি ঘিরে অবশ্য কিছু বিতর্কের জন্ম হয়েছিল। অবসরের ঘোষণার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের খবর ছড়িয়ে পড়ে। নেশনস লিগে নরওয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ম্যাচে তাকে একাদশে না রাখা এবং বদলি হিসেবেও না নামানোর ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয়। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা গ্যালারির দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গেলেও রোনালদো সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান। পরবর্তী ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে জায়গা না পাওয়ার ইঙ্গিত পেয়ে তিনি কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। সেই ঘটনার এক মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ালেন এই মহাতারকা।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আকাশছোঁয়া খরচ ও চড়া ট্যাক্সের জাঁতাকল: জাপানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নভঙ্গের বাস্তবতা

05 November 2026

প্রথমবারের মতো কুবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

২৩ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি, পর্তুগালকে বিদায় বললেন রোনালদো

হালনাগাদ সময় : ০৫:৫০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

একটি জার্সি, একটি দেশ আর অসংখ্য অর্জনের ইতিহাস—জাতীয় দলের সেই লাল-সবুজ পোশাকে আর দেখা যাবে না ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। পর্তুগালের হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান। এর মাধ্যমে পর্তুগিজ ফুটবলের এক স্বর্ণালি যুগের অবসান ঘটল।

বিদায়ী বার্তায় রোনালদোর কণ্ঠে ছিল গভীর আবেগ ও দীর্ঘ পথচলার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় দলের আইকনিক ৭ নম্বর জার্সিকে বিদায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের ৭ নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সময় এসেছে। আমি কখনোই এটাকে কেবল আমার একার সম্পদ মনে করিনি। তবে গত ২৩ বছর ধরে এই জার্সি পরার পরম সৌভাগ্য ও গুরুদায়িত্ব আমার ওপর ছিল। পর্তুগাল সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।’

পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালেই দেখা যায় পর্তুগালের ফুটবলে রোনালদোর অবদান কতটা অতুলনীয়। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে অংশ নিয়ে রেকর্ড ১৪৬টি গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলের বিশ্ব রেকর্ড দুটিই এখন তার দখলে। কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, পর্তুগালকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ শক্তিতে পরিণত করতে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে।

রোনালদোর অধিনায়কত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউরো) শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। এরপর ২০১৯ সালে তার হাত ধরেই আসে উয়েফা নেশনস লিগের ট্রফি। জাতীয় দলের ট্রফি ক্যাবিনেটে দুটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা যোগ করার গৌরব নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন এই কিংবদন্তি।

বিদায়ের মাহেন্দ্রক্ষণটি ঘিরে অবশ্য কিছু বিতর্কের জন্ম হয়েছিল। অবসরের ঘোষণার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের খবর ছড়িয়ে পড়ে। নেশনস লিগে নরওয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ম্যাচে তাকে একাদশে না রাখা এবং বদলি হিসেবেও না নামানোর ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয়। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা গ্যালারির দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গেলেও রোনালদো সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান। পরবর্তী ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে জায়গা না পাওয়ার ইঙ্গিত পেয়ে তিনি কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। সেই ঘটনার এক মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ালেন এই মহাতারকা।

Share this news as a Photo Card