শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শ্রম খাতে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে নতুন মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। গত এক বছরে শ্রমিক-মালিক-সরকারের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমেই এই সংস্কার সম্ভব হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান, যেখানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, গত ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ গেজেটভুক্ত হয়েছে। এই সংশোধনীতে গৃহকর্মী ও কৃষি শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার, ১২০ দিন প্রসূতি ছুটি, ব্ল্যাক লিস্টিং নিষিদ্ধকরণ, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনে ২০ জন সদস্য এবং ভবিষ্যৎ তহবিল বাধ্যতামূলক করাসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। এছাড়াও ‘কর্মহীন শ্রমিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৫’ চালু করা হয়েছে এবং কাস্টমস সার্ভিসকে অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস ঘোষণা করা হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। সাতটি শিল্পখাতের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আরও ২১টি খাতকে এই কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বেক্সিমকো গ্রুপের ৩১ হাজার ৬৬৯ শ্রমিক-কর্মকর্তার জন্য ৫৭৫ কোটি টাকা এবং নাসা গ্রুপের ১৭ হাজার ১৩৪ শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য ৩১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পাওনা পরিশোধ না করে বিদেশে পলায়নরত মালিকদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, ৩৪৭টি নতুন ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন করা হয়েছে, ৪৮ হাজার শ্রমিকের ৪৪টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, ৩ হাজার ৪৫৩ শিশুকে শ্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, ১১ হাজার ৬৯১টি পরিদর্শন ও ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গার্মেন্টসে ৩৪৭টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং ১ হাজার ২৭০ নারী শ্রমিককে ৩২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মাতৃত্বকালীন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ২২ হাজার ৯৪৮ শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ৮০ কোটির বেশি টাকা চিকিৎসা, মৃত্যু ও শিক্ষাবৃত্তি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ১ হাজার ৭৫৫ জন কর্মহীন শ্রমিককে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিমের মাধ্যমে ৮১ জনকে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ অনুসমর্থন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই তিনটি কনভেনশন অনুস্বাক্ষরিত হওয়ায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে আইএলও’র ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুস্বাক্ষরকারী দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলাদেশ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের (এএসপিএজি) ৪৫ দেশের সমন্বয়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কর্মসংস্থান বীমা পদ্ধতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শ্রম উপদেষ্টা জানান, রাজশাহীতে ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ চালু করা হয়েছে। ময়মনসিংহে নতুন শ্রম আদালত স্থাপন করা হয়েছে এবং শ্রম আদালতগুলোতে ১৩ হাজার ১৩টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ৯ হাজার ৩০২টি নতুন ও ৩৫ হাজার ১২টি লাইসেন্স নবায়ন করে ৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। এছাড়া, ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চাকরি মেলার মাধ্যমে ৪৩৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























