ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

‘সংখ্যালঘু দেখে কি ১৩ বছরেও বিচার পাইমু না?’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

“ছেলে হত্যার বিচার এখনও পাইলাম না। আগের সরকার চলে গেছে বিচার শেষ না করে। এ সরকারও করলো না। আমরা সংখ্যালঘু দেখে কি বিচার পাইমু না? আসামিরা আপিল করে ছাড়া পাইয়া যায় শুনি। তাইলে বিচার হইলো কই! তেরো বছরেও ছেলে হত্যার বিচার না পাইলে আর কবে পাইমু? সবার সামনে আমার ছেলেটারে কোপাই মাইরা ফেললো, সবাই দেখছে। এই সরকারের কাছে আপনাগো সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানাইতে চাই, দ্রুত বিচার দেখে যাইতে চাই”, এভাবেই ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আক্ষেপের কথা বলছিলেন বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস।

১৩ বছর আগে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরোনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। মামলায় নিন্ম আদালতে রায় ঘোষণার পরে হাইকোর্টে আপিলে আটকে আছে বিশ্বজিৎ হত্যার আসামিদের বিচার।

বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমগো দাবি একটাই ছিল, দ্রুত বিচার। কারণ, ভাই তো আর পাইমু না। আগে ভাবতাম সরকার পরিবর্তন হইলে বিচার পাইমু। কিন্তু অহনো তো খবর নাই। দেড় বছর হইয়া গেল এই সরকারের। কোনও খবর নেই বিচারের। এর আগের আওয়ামী লীগের সরকার হ্যাগো পোলাপাইনরইতো মারছে আমার ভাইরে তারাও করলো না বিচার, এই সরকারও করে না। কি কমু আর? তারপরও চাই ছোটো ভাই হত্যার বিচার দ্রুত হোক।”

ঘটনার দিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অনেকেই এ মামলায় গ্রেফতার হন। শরীয়তপুরের ছেলে বিশ্বজিতের শাঁখারীবাজারে দর্জির দোকান ছিল । ভিক্টোরিয়া পার্ক সংলগ্ন লক্ষ্মীবাজারে বড় ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ জনকে আসামি করে রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল আহমেদ। তিন মাসের মধ্যে তদন্ত করে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম। ২০১৩ সালের ২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলাটিতে একই ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক এ বি এম নিজামুল হক ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অন্য দুজনকে খালাস দিয়ে রায় দেন।

এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে আপিল করে খালাস পেয়েছেন দুজন। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিয়া হাইকোর্টে খালাস পান। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন, ইমদাদুল হক ও নূরে আলম ওরফে লিমন। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল ও রাজন তালুকদারের। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা খালাস পান হাইকোর্টে। বর্তমানে মামলাটি আপিলে বিচারাধীন।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় কার্যকর ও পরিবারের আক্ষেপের বিষয়ে ডেপুটি  অ্যার্টনি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “শুধু বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা না, অনেক মামলাই রায় ঘোষণার পরে সম্পূর্ণ কার্যকর হয়নি। এটা সময়সাপেক্ষ। তবে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর সব হত্যা মামলা সরকার আলাদাভাবে নিয়ে দ্রুত শেষ করবে বলে জানি। আমরাও আশা করি, এসব মামলা দ্রুত শেষ হবে। শুধু বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা না,আবরার ফাহাদ, নুসরাত হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডাররসহ সব আলোচিত মামলাগুলো অ্যাপিলেট ডিভিশন থেকে দ্রুত শেষ করা হবে বলে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভয়নগরে জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে জখম, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

‘সংখ্যালঘু দেখে কি ১৩ বছরেও বিচার পাইমু না?’

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

“ছেলে হত্যার বিচার এখনও পাইলাম না। আগের সরকার চলে গেছে বিচার শেষ না করে। এ সরকারও করলো না। আমরা সংখ্যালঘু দেখে কি বিচার পাইমু না? আসামিরা আপিল করে ছাড়া পাইয়া যায় শুনি। তাইলে বিচার হইলো কই! তেরো বছরেও ছেলে হত্যার বিচার না পাইলে আর কবে পাইমু? সবার সামনে আমার ছেলেটারে কোপাই মাইরা ফেললো, সবাই দেখছে। এই সরকারের কাছে আপনাগো সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানাইতে চাই, দ্রুত বিচার দেখে যাইতে চাই”, এভাবেই ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আক্ষেপের কথা বলছিলেন বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস।

১৩ বছর আগে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরোনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। মামলায় নিন্ম আদালতে রায় ঘোষণার পরে হাইকোর্টে আপিলে আটকে আছে বিশ্বজিৎ হত্যার আসামিদের বিচার।

বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমগো দাবি একটাই ছিল, দ্রুত বিচার। কারণ, ভাই তো আর পাইমু না। আগে ভাবতাম সরকার পরিবর্তন হইলে বিচার পাইমু। কিন্তু অহনো তো খবর নাই। দেড় বছর হইয়া গেল এই সরকারের। কোনও খবর নেই বিচারের। এর আগের আওয়ামী লীগের সরকার হ্যাগো পোলাপাইনরইতো মারছে আমার ভাইরে তারাও করলো না বিচার, এই সরকারও করে না। কি কমু আর? তারপরও চাই ছোটো ভাই হত্যার বিচার দ্রুত হোক।”

ঘটনার দিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অনেকেই এ মামলায় গ্রেফতার হন। শরীয়তপুরের ছেলে বিশ্বজিতের শাঁখারীবাজারে দর্জির দোকান ছিল । ভিক্টোরিয়া পার্ক সংলগ্ন লক্ষ্মীবাজারে বড় ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ জনকে আসামি করে রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল আহমেদ। তিন মাসের মধ্যে তদন্ত করে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম। ২০১৩ সালের ২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে বিচার শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলাটিতে একই ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক এ বি এম নিজামুল হক ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অন্য দুজনকে খালাস দিয়ে রায় দেন।

এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে আপিল করে খালাস পেয়েছেন দুজন। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিয়া হাইকোর্টে খালাস পান। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন, ইমদাদুল হক ও নূরে আলম ওরফে লিমন। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল ও রাজন তালুকদারের। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা খালাস পান হাইকোর্টে। বর্তমানে মামলাটি আপিলে বিচারাধীন।

বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় কার্যকর ও পরিবারের আক্ষেপের বিষয়ে ডেপুটি  অ্যার্টনি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “শুধু বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা না, অনেক মামলাই রায় ঘোষণার পরে সম্পূর্ণ কার্যকর হয়নি। এটা সময়সাপেক্ষ। তবে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর সব হত্যা মামলা সরকার আলাদাভাবে নিয়ে দ্রুত শেষ করবে বলে জানি। আমরাও আশা করি, এসব মামলা দ্রুত শেষ হবে। শুধু বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা না,আবরার ফাহাদ, নুসরাত হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডাররসহ সব আলোচিত মামলাগুলো অ্যাপিলেট ডিভিশন থেকে দ্রুত শেষ করা হবে বলে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।”