ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানের পর দুদকে রেকর্ড সাফল্য: ২৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, জালে সাড়ে ৩ হাজার ভিআইপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে আরও জোরদার করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার ক্ষেত্রে রেকর্ড সাফল্য দেখানোর পাশাপাশি মামলা ও চার্জশিটে অপেক্ষাকৃত বেশি সংখ্যক আসামিকে অভিযুক্ত করেছে সংস্থাটি।

২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে মামলা দায়ের এবং চার্জশিট দাখিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ১১ মাসে বিভিন্ন শ্রেণির ২,২৯৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫৪১টি মামলা বা এজাহার দায়ের করেছে দুদক। একই সময়ে ১,২০৩ জন আসামির বিরুদ্ধে ৩৪৯টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভিআইপি আসামি দুদকের জালে ফেঁসেছেন বলে জানা গেছে।

দুদকের জালে ফাসা সাড়ে ৩ হাজার আসামির তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা, ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব, মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ শেখ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও তালিকায় আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এস আলম গ্রুপের মালিক শামসুল আলম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নাজমুল হাসান পাপন, টিপু মুনশি, গোলাম দস্তগীর গাজী, জাহিদ মালিক, নসরুল হামিদ বিপু, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি। এস আলম গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নূরজাহার গ্রুপ, অ্যাননটেক্স গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও জেমকন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আসামির তালিকায় রয়েছেন।

গত ১১ মাসে দুর্নীতি দমন বিষয়ক সংস্থাটি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে ও বিদেশে দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, সরকারি লোপাটকারী এবং ঋণখেলাপিসহ তিন শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৬ হাজার ১৩ কোটি টাকারও বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে ২০২৪ সালের পুরো সময়ে ক্রোক ও অবরুদ্ধের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৬১ কোটি টাকা। দুদক সূত্রে জানা যায়, এই ১১ মাসে দেশে ৩,৪৫৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। দেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২২,২২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং বিদেশে ৩২৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নতুন করে ১,০৬৩টি নতুন অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক এবং ৩৮২টি সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি হয়েছে। বিচারাধীন মামলার মধ্যে ২৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২৬টিতে সাজা হয়েছে। এ সময় ৫,০৫৮ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ৩২১ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ঢাকা পোস্টকে বলেন, “দুদকের দন্ত ও নখ রয়েছে। যা আরও তীক্ষ্ণ করা হয়ত দরকার আছে। একটা কথা বলতে চাই দুদক যথার্থ আইনী শক্তিতে মহীয়ান। বিচারকাজে গতিশীল করতে দুদকের আরও বিশেষ আদালত প্রয়োজন।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

অভয়নগরে জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে জখম, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

গণঅভ্যুত্থানের পর দুদকে রেকর্ড সাফল্য: ২৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, জালে সাড়ে ৩ হাজার ভিআইপি

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে আরও জোরদার করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার ক্ষেত্রে রেকর্ড সাফল্য দেখানোর পাশাপাশি মামলা ও চার্জশিটে অপেক্ষাকৃত বেশি সংখ্যক আসামিকে অভিযুক্ত করেছে সংস্থাটি।

২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে মামলা দায়ের এবং চার্জশিট দাখিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ১১ মাসে বিভিন্ন শ্রেণির ২,২৯৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫৪১টি মামলা বা এজাহার দায়ের করেছে দুদক। একই সময়ে ১,২০৩ জন আসামির বিরুদ্ধে ৩৪৯টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভিআইপি আসামি দুদকের জালে ফেঁসেছেন বলে জানা গেছে।

দুদকের জালে ফাসা সাড়ে ৩ হাজার আসামির তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা, ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব, মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ শেখ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও তালিকায় আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এস আলম গ্রুপের মালিক শামসুল আলম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক, দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নাজমুল হাসান পাপন, টিপু মুনশি, গোলাম দস্তগীর গাজী, জাহিদ মালিক, নসরুল হামিদ বিপু, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি। এস আলম গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নূরজাহার গ্রুপ, অ্যাননটেক্স গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও জেমকন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আসামির তালিকায় রয়েছেন।

গত ১১ মাসে দুর্নীতি দমন বিষয়ক সংস্থাটি স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১১ মাসে দেশে ও বিদেশে দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, সরকারি লোপাটকারী এবং ঋণখেলাপিসহ তিন শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৬ হাজার ১৩ কোটি টাকারও বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে ২০২৪ সালের পুরো সময়ে ক্রোক ও অবরুদ্ধের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৬১ কোটি টাকা। দুদক সূত্রে জানা যায়, এই ১১ মাসে দেশে ৩,৪৫৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। দেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২২,২২৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং বিদেশে ৩২৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নতুন করে ১,০৬৩টি নতুন অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক এবং ৩৮২টি সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি হয়েছে। বিচারাধীন মামলার মধ্যে ২৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২৬টিতে সাজা হয়েছে। এ সময় ৫,০৫৮ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং ৩২১ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ঢাকা পোস্টকে বলেন, “দুদকের দন্ত ও নখ রয়েছে। যা আরও তীক্ষ্ণ করা হয়ত দরকার আছে। একটা কথা বলতে চাই দুদক যথার্থ আইনী শক্তিতে মহীয়ান। বিচারকাজে গতিশীল করতে দুদকের আরও বিশেষ আদালত প্রয়োজন।”