ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

গোরস্থানে আলোকসজ্জা করার নাম উন্নয়ন নয়: নজরুল ইসলাম খান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা দেশে উন্নয়ন দেখেছি। বড় বড় দালানকোঠা, বড় বড় এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন ট্রেন ইত্যাদি। কিন্তু পাশাপাশি আমরা দেখেছি জনগণের মৌলিক নূন্যতম আকাঙ্ক্ষাগুলো অপূর্ণ থেকে যেতে।’

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় পড়েছি যে, কোটিপতি উৎপাদনের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ শীর্ষে। এ দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি হয় প্রতিবছর। অথচ আমরা এটাও পড়েছি যে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে যায়। একদিকে কিছু মানুষ কোটিপতি হয়, আরেক দিকে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে পড়ে যায়। এই অবস্থা, এই অবস্থা গ্রহণযোগ্য না। এটাকে উন্নয়ন বলে না।’

তিনি বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ বলেছিলেন যে, দেশের মানুষ বেকার উপার্জনহীন বুভুক্ষ, দরিদ্র সেই দেশে বড় বড় অট্টালিকা, বড় বড় রাস্তাঘাট, বড় বড় পুল-কালভার্ট এসব হলো গোরস্থানে আলোকসজ্জা করা। আপনি একটা গোরস্থানে আলোকসজ্জা করে দেখাতে পারেন বড় সুন্দর লাগছে। কিন্তু তার চারদিকে অন্ধকার। এটা উন্নয়ন না।’

এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারা খানিকক্ষণ পরেই শুনবেন যে কেমন উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে বিএনপি। কীভাবে সে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চাই আমরা। খালি বললেই তো হবে না যে আমরা দেশের মানুষকে শিক্ষিত করতে চাই। কীভাবে শিক্ষিত করবেন? আমরা দেশের মানুষের উপার্জন বাড়াতে চাই। কীভাবে করবেন? আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। কীভাবে করবেন? আমরা নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে চাই। কীভাবে করবেন? আমরা স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই জনগণের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আজ একটা জরিপের রিপোর্ট বের হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, বেশি আসন এই নির্বাচনে কে পাবে? কোন দল? শতকরা ৬৬ ভাগ উত্তরদাতা বলেছে বিএনপি। আর শতকরা ২৬ ভাগ উত্তরদাতা বলেছে জামায়াতে ইসলামী। ডিফারেন্স হলো ৪৪ ভাগ। আর অন্যান্য যারা, তারা তো অনেক অনেক কম? এমনকি অনেক উল্লেখযোগ্য দল, তারা শতকরা এক ভাগও না, তার চেয়েও কম। এতে হতাশ হয়ে নিরাশ হয়ে কেউ ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিতেই পারে। কিন্তু যে জনগণ তাদের মন স্থির করে ফেলেছে, তারাই ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেবে না… এটা মনে রাখতে হবে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক ও অলামা দলের জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আজ বিকেলে এই অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন: পাম্পে পাম্পে হাহাকার ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা

গোরস্থানে আলোকসজ্জা করার নাম উন্নয়ন নয়: নজরুল ইসলাম খান

আপডেট সময় : ০২:০৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা দেশে উন্নয়ন দেখেছি। বড় বড় দালানকোঠা, বড় বড় এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন ট্রেন ইত্যাদি। কিন্তু পাশাপাশি আমরা দেখেছি জনগণের মৌলিক নূন্যতম আকাঙ্ক্ষাগুলো অপূর্ণ থেকে যেতে।’

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘আমরা পত্রিকায় পড়েছি যে, কোটিপতি উৎপাদনের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ শীর্ষে। এ দেশে জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি হয় প্রতিবছর। অথচ আমরা এটাও পড়েছি যে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে যায়। একদিকে কিছু মানুষ কোটিপতি হয়, আরেক দিকে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে পড়ে যায়। এই অবস্থা, এই অবস্থা গ্রহণযোগ্য না। এটাকে উন্নয়ন বলে না।’

তিনি বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ বলেছিলেন যে, দেশের মানুষ বেকার উপার্জনহীন বুভুক্ষ, দরিদ্র সেই দেশে বড় বড় অট্টালিকা, বড় বড় রাস্তাঘাট, বড় বড় পুল-কালভার্ট এসব হলো গোরস্থানে আলোকসজ্জা করা। আপনি একটা গোরস্থানে আলোকসজ্জা করে দেখাতে পারেন বড় সুন্দর লাগছে। কিন্তু তার চারদিকে অন্ধকার। এটা উন্নয়ন না।’

এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারা খানিকক্ষণ পরেই শুনবেন যে কেমন উন্নয়নের স্বপ্ন দেখে বিএনপি। কীভাবে সে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চাই আমরা। খালি বললেই তো হবে না যে আমরা দেশের মানুষকে শিক্ষিত করতে চাই। কীভাবে শিক্ষিত করবেন? আমরা দেশের মানুষের উপার্জন বাড়াতে চাই। কীভাবে করবেন? আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। কীভাবে করবেন? আমরা নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে চাই। কীভাবে করবেন? আমরা স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই জনগণের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আজ একটা জরিপের রিপোর্ট বের হয়েছে। সেখানে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, বেশি আসন এই নির্বাচনে কে পাবে? কোন দল? শতকরা ৬৬ ভাগ উত্তরদাতা বলেছে বিএনপি। আর শতকরা ২৬ ভাগ উত্তরদাতা বলেছে জামায়াতে ইসলামী। ডিফারেন্স হলো ৪৪ ভাগ। আর অন্যান্য যারা, তারা তো অনেক অনেক কম? এমনকি অনেক উল্লেখযোগ্য দল, তারা শতকরা এক ভাগও না, তার চেয়েও কম। এতে হতাশ হয়ে নিরাশ হয়ে কেউ ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিতেই পারে। কিন্তু যে জনগণ তাদের মন স্থির করে ফেলেছে, তারাই ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেবে না… এটা মনে রাখতে হবে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক ও অলামা দলের জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আজ বিকেলে এই অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।