ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইউক্রেনকে সহায়তা জোরদারকে সংকটপূর্ণ মুহূর্ত বললেন ইউরোপীয় নেতারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপীয় নেতারা বলেছেন, ইউক্রেনকে সহায়তা বাড়ানো এবং রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য সংকটপূর্ণ মুহূর্ত এখন। সোমবার (৮ নভেম্বর) লন্ডনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আলোচনা হয় শান্তি পরিকল্পনার সর্বশেষ সংস্করণ নিয়ে, যা গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় ও মার্কিন কর্মকর্তারা যৌথভাবে তৈরি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ইউরোপীয় নেতারা জানান, ইউক্রেনের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অর্জনে আরও কাজ বাকি আছে— যখন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করতে কিয়েভকে চাপ দিচ্ছে।

জেলেনস্কি পরে ন্যাটো কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ব্রাসেলসের উদ্দেশে রওনা হন। বলেন, ইউক্রেন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে সংশোধিত পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করবে।

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় তিন দিন ধরে ইউক্রেনীয় দলটি মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে বসে মার্কিন-সমর্থিত এক শান্তি প্রস্তাবের পরিবর্তন চাইছিল, যেটিকে অনেকেই রাশিয়ার পক্ষে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন।

লন্ডনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি জানান যে নভেম্বরের প্রাথমিক চুক্তিতে থাকা ‘সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ইউক্রেন-বিরোধী পয়েন্টগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।’

তবে তিনি স্বীকার করেন যে ভূখণ্ড ছাড়ার বিষয়ে এখনও বড় ধরনের সংশয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে এখনো “সমঝোতা হয়নি”।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে বলা হয়েছে— রাশিয়া যে পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলো বলপ্রয়োগে দখল করতে চেয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি নিতে পারেনি, সেখান থেকে ইউক্রেনকে তার সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে হবে। এর বিনিময়ে রাশিয়া অন্য কিছু এলাকা থেকে সরে আসবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

কিন্তু জেলেনস্কির জন্য এটি অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। কারণ তিনি আগ্রাসনের পুরস্কার হিসেবে রাশিয়াকে কোনও ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি বারবার সতর্ক করে বলেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় যে-কোনো অবস্থান রাশিয়ার হাতে গেলে তারা ভবিষ্যতে নতুন হামলার ঘাঁটি হিসেবে তা ব্যবহার করবে।

জেলেনস্কি বলেন, “আমেরিকানরা নীতিগতভাবে সমঝোতা খুঁজতে আগ্রহী। তবে তিনি মনে করেন, ইউক্রেন চাইছে ভবিষ্যতে রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি—যা নিয়ে এখনও সমাধান হয়নি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, এখনই সময়—ইউক্রেনকে সহায়তা বাড়ানো ও পুতিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করে এই বর্বরোচিত যুদ্ধ থামাতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নেতারা যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনার অগ্রগতিকে সমর্থন করেছেন এবং ইউক্রেনে ‘ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি’—যার মধ্যে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকবে—তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

বৈঠকের আগে স্টারমার বলেন, ইউক্রেনের শান্তিচুক্তিতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

মেরৎস জানান, মার্কিন পরিকল্পনার কিছু অংশ নিয়ে তিনি সংশয়ী, তবে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

ফ্রান্স জানায়, ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানে কাজ আরও জোরদার করা হবে।

কিয়েভ ও ইউরোপের আশঙ্কা, আলোচনার ধীরগতিতে হতাশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের প্রতি তার সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে। লন্ডনে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা আমেরিকা ছাড়া পারব না, ইউরোপ ছাড়া পারব না—তাই এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা হয়ত ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থকে উপেক্ষা করতে পারে।

রাশিয়া উল্লেখযোগ্য সামরিক ক্ষতি ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিজেদের প্রধান দাবি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। এরমধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের ন্যাটো জোটে যোগদানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি।

গত সপ্তাহে মস্কোতে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে কোনও অগ্রগতি হয়নি।

গত সপ্তাহে পুতিন পুনরায় জানান যে, তার বাহিনী দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল সম্পূর্ণ দখল না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে— এখন পর্যন্ত রুশ সেনার হাতে রয়েছে এর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড় প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনকে সহায়তা জোরদারকে সংকটপূর্ণ মুহূর্ত বললেন ইউরোপীয় নেতারা

আপডেট সময় : ১০:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউরোপীয় নেতারা বলেছেন, ইউক্রেনকে সহায়তা বাড়ানো এবং রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য সংকটপূর্ণ মুহূর্ত এখন। সোমবার (৮ নভেম্বর) লন্ডনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে আলোচনা হয় শান্তি পরিকল্পনার সর্বশেষ সংস্করণ নিয়ে, যা গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় ও মার্কিন কর্মকর্তারা যৌথভাবে তৈরি করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ইউরোপীয় নেতারা জানান, ইউক্রেনের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অর্জনে আরও কাজ বাকি আছে— যখন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করতে কিয়েভকে চাপ দিচ্ছে।

জেলেনস্কি পরে ন্যাটো কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ব্রাসেলসের উদ্দেশে রওনা হন। বলেন, ইউক্রেন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে সংশোধিত পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করবে।

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় তিন দিন ধরে ইউক্রেনীয় দলটি মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে বসে মার্কিন-সমর্থিত এক শান্তি প্রস্তাবের পরিবর্তন চাইছিল, যেটিকে অনেকেই রাশিয়ার পক্ষে সুবিধাজনক বলে মনে করছেন।

লন্ডনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জেলেনস্কি জানান যে নভেম্বরের প্রাথমিক চুক্তিতে থাকা ‘সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ইউক্রেন-বিরোধী পয়েন্টগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।’

তবে তিনি স্বীকার করেন যে ভূখণ্ড ছাড়ার বিষয়ে এখনও বড় ধরনের সংশয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে এখনো “সমঝোতা হয়নি”।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে বলা হয়েছে— রাশিয়া যে পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলো বলপ্রয়োগে দখল করতে চেয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি নিতে পারেনি, সেখান থেকে ইউক্রেনকে তার সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে হবে। এর বিনিময়ে রাশিয়া অন্য কিছু এলাকা থেকে সরে আসবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

কিন্তু জেলেনস্কির জন্য এটি অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। কারণ তিনি আগ্রাসনের পুরস্কার হিসেবে রাশিয়াকে কোনও ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি বারবার সতর্ক করে বলেছেন, পূর্বাঞ্চলীয় যে-কোনো অবস্থান রাশিয়ার হাতে গেলে তারা ভবিষ্যতে নতুন হামলার ঘাঁটি হিসেবে তা ব্যবহার করবে।

জেলেনস্কি বলেন, “আমেরিকানরা নীতিগতভাবে সমঝোতা খুঁজতে আগ্রহী। তবে তিনি মনে করেন, ইউক্রেন চাইছে ভবিষ্যতে রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি—যা নিয়ে এখনও সমাধান হয়নি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, এখনই সময়—ইউক্রেনকে সহায়তা বাড়ানো ও পুতিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করে এই বর্বরোচিত যুদ্ধ থামাতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নেতারা যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনার অগ্রগতিকে সমর্থন করেছেন এবং ইউক্রেনে ‘ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি’—যার মধ্যে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকবে—তার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

বৈঠকের আগে স্টারমার বলেন, ইউক্রেনের শান্তিচুক্তিতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

মেরৎস জানান, মার্কিন পরিকল্পনার কিছু অংশ নিয়ে তিনি সংশয়ী, তবে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

ফ্রান্স জানায়, ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানে কাজ আরও জোরদার করা হবে।

কিয়েভ ও ইউরোপের আশঙ্কা, আলোচনার ধীরগতিতে হতাশ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের প্রতি তার সমর্থন কমিয়ে দিতে পারে। লন্ডনে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা আমেরিকা ছাড়া পারব না, ইউরোপ ছাড়া পারব না—তাই এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা হয়ত ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থকে উপেক্ষা করতে পারে।

রাশিয়া উল্লেখযোগ্য সামরিক ক্ষতি ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিজেদের প্রধান দাবি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। এরমধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের ন্যাটো জোটে যোগদানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি।

গত সপ্তাহে মস্কোতে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে কোনও অগ্রগতি হয়নি।

গত সপ্তাহে পুতিন পুনরায় জানান যে, তার বাহিনী দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল সম্পূর্ণ দখল না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে— এখন পর্যন্ত রুশ সেনার হাতে রয়েছে এর প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা।