ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি’—টিউলিপ সিদ্দিকের এমন দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলল দুদক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পাওয়ার’ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে দুদক চেয়ারম্যানের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দুদকের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিককে আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হননি এবং কোনো প্রতিনিধিও নিয়োগ দেননি। তাই তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলেছে। টিউলিপ সিদ্দিকের যে বক্তব্য তা একেবারেই সত্য নয়। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নথিপত্র পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। সব প্রমাণ-নথি বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই।

মামলাগুলো মূলত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ঢাকার গুলশানসহ অভিজাত এলাকায় প্লট বরাদ্দে অনিয়মকে কেন্দ্র করে। নথিতে দেখা যায়, টিউলিপ সিদ্দিক তার খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মা শেখ রেহানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে সরকারি প্লট বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার করেন। এমনকি তিনি নিজেও অতিরিক্ত একটি প্লট বরাদ্দ পান। তিনটি মামলার একটি, বিশেষ মামলা নং ১৮/২০২৫, এর রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়েছে এবং ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৫ তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ৩২ জন সাক্ষী হাজির করে এবং আদালত তার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

দুদক আরও জানায়, এসব প্লট ঢাকার ব্যয়বহুল এলাকায় অবস্থিত, যা মূলত সরকারি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তা ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে যায়। এছাড়া, লন্ডনে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির তথ্যও নথিতে পাওয়া গেছে। সরকারি পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি ও তার পরিবার কীভাবে ঢাকাসহ লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে একাধিক সম্পত্তি অর্জন করলেন, তা নিয়ে দুদক প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে বিশেষ ঋণসুবিধা: ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আনার সুযোগ

‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি’—টিউলিপ সিদ্দিকের এমন দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলল দুদক

আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পাওয়ার’ দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে দুদক চেয়ারম্যানের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দুদকের দাবি, টিউলিপ সিদ্দিককে আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হননি এবং কোনো প্রতিনিধিও নিয়োগ দেননি। তাই তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলেছে। টিউলিপ সিদ্দিকের যে বক্তব্য তা একেবারেই সত্য নয়। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নথিপত্র পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। সব প্রমাণ-নথি বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই।

মামলাগুলো মূলত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ঢাকার গুলশানসহ অভিজাত এলাকায় প্লট বরাদ্দে অনিয়মকে কেন্দ্র করে। নথিতে দেখা যায়, টিউলিপ সিদ্দিক তার খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মা শেখ রেহানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে সরকারি প্লট বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার করেন। এমনকি তিনি নিজেও অতিরিক্ত একটি প্লট বরাদ্দ পান। তিনটি মামলার একটি, বিশেষ মামলা নং ১৮/২০২৫, এর রায় ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়েছে এবং ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৫ তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ৩২ জন সাক্ষী হাজির করে এবং আদালত তার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

দুদক আরও জানায়, এসব প্লট ঢাকার ব্যয়বহুল এলাকায় অবস্থিত, যা মূলত সরকারি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তা ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে যায়। এছাড়া, লন্ডনে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির তথ্যও নথিতে পাওয়া গেছে। সরকারি পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি ও তার পরিবার কীভাবে ঢাকাসহ লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে একাধিক সম্পত্তি অর্জন করলেন, তা নিয়ে দুদক প্রশ্ন তুলেছে।