নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য আরসিসি ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার অনুরোধ ও চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করাতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ, যার ফলে এলাকার শতাধিক পরিবার চার মাস ধরে অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছে।
বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিনথিয়া আলামিন আনিসুর নামে একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয়ভাবে পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সেলিম শাহ এই প্রকল্পের কাজ তদারকি করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি কাজের বিলও পরিশোধ করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গেট থেকে সুফিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন ও স্লাব নির্মাণের জন্য জনচলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কেটে গর্ত করে রাখা হয়েছে। চার মাস ধরে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্পের ১৩০ মিটার ঢালাই ও স্লাব বসানোর কাজ শেষ হলেও পশ্চিমাংশে রড বসানো হয়েছে কিন্তু ঢালাই দেওয়া হয়নি। সেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরও ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ছয় মাস, যা গত ১০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধীর গতির নির্মাণ কাজের কারণে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এবং বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা পৌর প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পৌর প্রকৌশলী আবু রায়হান জানিয়েছেন, নিম্নমানের উপকরণ ও রড ব্যবহারের অভিযোগে মাঝখানে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করলেও ঢালাইয়ে নিম্নমানের পাথর ও ৮ মিলিমিটার রডের সঙ্গে ১২ মিলিমিটার রড ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিধিমেনে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাসুম আলী জানিয়েছেন, তার লাইসেন্সে কাজটি করছেন সেলিম শাহ এবং দায়দায়িত্ব তারই।
রিপোর্টারের নাম 



















