মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বকেয়া কোচিং ফি আদায়ে সিদ্ধিরগঞ্জে ২১ শিক্ষার্থীকে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে কোচিংয়ের বকেয়া ফি পরিশোধ না করার দায়ে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রী। কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

ঘটনাটি ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার পিএম একাডেমি সংলগ্ন আল বালাগ স্কুলে। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, গত সোমবার ৮২ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন তাঁর কক্ষে ডেকে পাঠান এবং কোচিংয়ের বকেয়া ফি দাবি করেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে কোচিং ফি হিসেবে শিক্ষার্থীপ্রতি এক হাজার টাকা নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এ সময় তারা পরিবারের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য সময় চায়। কেউ কেউ পরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতিও দেয়। এরপরও তাদের প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অস্বস্তি ও নার্ভাস অবস্থায় দেখা গেছে। বিষয়টি পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বকেয়া টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এরপরও আমার মেয়েকে তাঁর কক্ষে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাচ্ছে না, স্বাভাবিক আচরণও করছে না।’ আরেক অভিভাবক বলেন, ‘কোচিংয়ের টাকা না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের এভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা আগে কখনো শুনিনি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চাইছেন না।’

অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং কোচিং কার্যক্রম নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এবার বকেয়া কোচিং ফি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের ঘোষণা: রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উদযাপন মাসব্যাপী

বকেয়া কোচিং ফি আদায়ে সিদ্ধিরগঞ্জে ২১ শিক্ষার্থীকে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে কোচিংয়ের বকেয়া ফি পরিশোধ না করার দায়ে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রী। কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।

ঘটনাটি ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার পিএম একাডেমি সংলগ্ন আল বালাগ স্কুলে। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, গত সোমবার ৮২ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসেন তাঁর কক্ষে ডেকে পাঠান এবং কোচিংয়ের বকেয়া ফি দাবি করেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে কোচিং ফি হিসেবে শিক্ষার্থীপ্রতি এক হাজার টাকা নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এ সময় তারা পরিবারের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য সময় চায়। কেউ কেউ পরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতিও দেয়। এরপরও তাদের প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অস্বস্তি ও নার্ভাস অবস্থায় দেখা গেছে। বিষয়টি পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বকেয়া টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এরপরও আমার মেয়েকে তাঁর কক্ষে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাচ্ছে না, স্বাভাবিক আচরণও করছে না।’ আরেক অভিভাবক বলেন, ‘কোচিংয়ের টাকা না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের এভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা আগে কখনো শুনিনি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চাইছেন না।’

অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং কোচিং কার্যক্রম নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এবার বকেয়া কোচিং ফি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।