ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বগুড়ার ছয় স্কুলে কর্মবিরতি, সাতটিতে পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলমান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

সারা দেশের মতো বগুড়াতেও সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চার দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন। জেলার ১৩টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টির শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেছেন। তবে সাতটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলমান আছে।

সোমবার (০১ ডিসেম্বর) বিকালে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল, রাজশাহীর উপ-পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট ১৩টি সরকারি স্কুল রয়েছে। নিয়োগবিধি না থাকা, পদোন্নতি বঞ্চিত, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরকে আলাদা করতে প্রধান উপদেষ্টা তিন মাস আগে ঘোষণা দিলেও আজ পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। এ কারণে জেলার ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টির শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও সব ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি। আন্দোলনকারীরা সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির (বাসমাশিস) ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

পরীক্ষা বর্জনকারী স্কুলগুলো হলো- বগুড়া জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গাবতলী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সারিয়াকান্দিতে সারিয়াকান্দি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আদমদীঘিতে সান্তাহার হার্ভে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং নন্দীগ্রামে নন্দীগ্রাম সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

পরীক্ষা গ্রহণ ও কার্যক্রম চলমান আছে শাজাহানপুরের সরকারি চাঁচাইতারা মাদলা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়, শেরপুর সরকারি ডায়মন্ড জুবলী মডেল হাইস্কুল, কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ধুনট সরকারি নইম উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, ‌‘বগুড়ার ১৩টি সরকারি স্কুলের মধ্যে শহরের দুটিসহ পাঁচটিতে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেছেন। বাকি আট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলমান আছে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল, রাজশাহীর উপপরিচালককে চিঠি দিয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে। শিক্ষকদের চারটি দাবি হলো- ১. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক‍্যাডারভুক্ত করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের’ গেজেট প্রকাশ। ২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা। ৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ দেওয়া। ৪. ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের দুই থেকে তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন-সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-ইসরাইল সংঘাত: ইসরাইলের দাবি, আকাশপথে ২০০০টির বেশি বোমা বর্ষণ

বগুড়ার ছয় স্কুলে কর্মবিরতি, সাতটিতে পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলমান

আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

সারা দেশের মতো বগুড়াতেও সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চার দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন। জেলার ১৩টি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টির শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেছেন। তবে সাতটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলমান আছে।

সোমবার (০১ ডিসেম্বর) বিকালে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল, রাজশাহীর উপ-পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট ১৩টি সরকারি স্কুল রয়েছে। নিয়োগবিধি না থাকা, পদোন্নতি বঞ্চিত, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরকে আলাদা করতে প্রধান উপদেষ্টা তিন মাস আগে ঘোষণা দিলেও আজ পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। এ কারণে জেলার ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টির শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও সব ধরনের পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি। আন্দোলনকারীরা সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির (বাসমাশিস) ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

পরীক্ষা বর্জনকারী স্কুলগুলো হলো- বগুড়া জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গাবতলী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সারিয়াকান্দিতে সারিয়াকান্দি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আদমদীঘিতে সান্তাহার হার্ভে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং নন্দীগ্রামে নন্দীগ্রাম সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

পরীক্ষা গ্রহণ ও কার্যক্রম চলমান আছে শাজাহানপুরের সরকারি চাঁচাইতারা মাদলা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়, শেরপুর সরকারি ডায়মন্ড জুবলী মডেল হাইস্কুল, কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ধুনট সরকারি নইম উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, দুপচাঁচিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি সোনাতলা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, ‌‘বগুড়ার ১৩টি সরকারি স্কুলের মধ্যে শহরের দুটিসহ পাঁচটিতে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও পরীক্ষা কার্যক্রম বর্জন করেছেন। বাকি আট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম চলমান আছে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চল, রাজশাহীর উপপরিচালককে চিঠি দিয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে। শিক্ষকদের চারটি দাবি হলো- ১. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক‍্যাডারভুক্ত করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের’ গেজেট প্রকাশ। ২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা। ৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ দেওয়া। ৪. ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের দুই থেকে তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন-সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।