মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

চীন-ইন্দোনেশিয়া যৌথ নৌ মহড়ার পরিকল্পনায় তাইওয়ানের তীব্র প্রতিক্রিয়া, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানির অভিযোগ

তাইপেই: তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের কাছে ইন্দোনেশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে নৌ মহড়ার পরিকল্পনা করেছে চীন। এই পদক্ষেপকে ‘সামরিক উসকানি’ ও ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান। তাইপের অভিযোগ, পূর্ব তাইওয়ানের সমুদ্রসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি ভ্রান্ত ধারণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতেই বেইজিং এই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানের পূর্বে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে ‘নৌ চলাচল মহড়া’ অনুষ্ঠিত হবে। তবে মহড়ার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

তাইওয়ানের চীনবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে এই পরিকল্পনাকে আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে পারে এমন একটি বিপজ্জনক আচরণ বলে অভিহিত করে। সংস্থাটি চীনকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

তাইওয়ানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চীন পূর্ব উপকূলে তথাকথিত নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহলের নামে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়ার উদ্যোগ নিয়ে বেইজিং আন্তর্জাতিক মহলে এমন ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে, তাইওয়ানের পূর্ব দিকের সমুদ্রসীমার ওপর তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে।

তবে তাইওয়ানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, যে ইন্দোনেশীয় যুদ্ধজাহাজটির মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি বিশেষভাবে চীনের সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিতে আসছে না। জাহাজটি জাপান থেকে ফেরার পথে তাইওয়ানের পূর্বদিকে অবস্থান করছে এবং এটি তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। তাইওয়ানের ওপর সরাসরি কোনো সামরিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা না থাকলেও এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, ইন্দোনেশিয়া সত্যিই এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে দেশটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে, যদিও তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক অঞ্চল এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণেরই রয়েছে বলে তাইপে সরকার দৃঢ়ভাবে বলে আসছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগে দলীয়করণ: বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চীন-ইন্দোনেশিয়া যৌথ নৌ মহড়ার পরিকল্পনায় তাইওয়ানের তীব্র প্রতিক্রিয়া, বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

তাইপেই: তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের কাছে ইন্দোনেশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে নৌ মহড়ার পরিকল্পনা করেছে চীন। এই পদক্ষেপকে ‘সামরিক উসকানি’ ও ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাইওয়ান। তাইপের অভিযোগ, পূর্ব তাইওয়ানের সমুদ্রসীমায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি ভ্রান্ত ধারণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতেই বেইজিং এই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তাইওয়ানের পূর্বে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে ‘নৌ চলাচল মহড়া’ অনুষ্ঠিত হবে। তবে মহড়ার সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

তাইওয়ানের চীনবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে এই পরিকল্পনাকে আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে পারে এমন একটি বিপজ্জনক আচরণ বলে অভিহিত করে। সংস্থাটি চীনকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

তাইওয়ানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে চীন পূর্ব উপকূলে তথাকথিত নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহলের নামে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামরিক মহড়ার উদ্যোগ নিয়ে বেইজিং আন্তর্জাতিক মহলে এমন ধারণা তৈরি করতে চাইছে যে, তাইওয়ানের পূর্ব দিকের সমুদ্রসীমার ওপর তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে।

তবে তাইওয়ানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, যে ইন্দোনেশীয় যুদ্ধজাহাজটির মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি বিশেষভাবে চীনের সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিতে আসছে না। জাহাজটি জাপান থেকে ফেরার পথে তাইওয়ানের পূর্বদিকে অবস্থান করছে এবং এটি তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। তাইওয়ানের ওপর সরাসরি কোনো সামরিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা না থাকলেও এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, ইন্দোনেশিয়া সত্যিই এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে দেশটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে, যদিও তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক অঞ্চল এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল তাইওয়ানের জনগণেরই রয়েছে বলে তাইপে সরকার দৃঢ়ভাবে বলে আসছে।