মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

মোদি শাসনামলে ভারত-ইসরাইল সামরিক সম্পর্কের কৌশলগত রূপান্তর

গত এক দশকে ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নয়াদিল্লি এখন কেবল ইসরাইলি অস্ত্রের প্রধান ক্রেতাই নয়, বরং দেশটির অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক তদন্তে উঠে এসেছে যে, যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত এখন ইসরাইলের সামরিক সরবরাহে সরাসরি অবদান রাখছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালজুড়ে ভারতীয় কারখানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও বিস্ফোরক ইসরাইলি সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইল চাপের মুখে থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর বিশেষ প্রভাব পড়েনি। মূলত আদর্শিক সাদৃশ্য এবং ভারতের ডানপন্থি রাজনীতিতে ইসরাইলকে একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখার প্রবণতা এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তবে ইসরাইলের সঙ্গে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের ভারসাম্য রক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদি শাসনামলে ভারত-ইসরাইল সামরিক সম্পর্কের কৌশলগত রূপান্তর

আপডেট সময় : ১২:০০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

গত এক দশকে ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নয়াদিল্লি এখন কেবল ইসরাইলি অস্ত্রের প্রধান ক্রেতাই নয়, বরং দেশটির অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক তদন্তে উঠে এসেছে যে, যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত এখন ইসরাইলের সামরিক সরবরাহে সরাসরি অবদান রাখছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালজুড়ে ভারতীয় কারখানাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও বিস্ফোরক ইসরাইলি সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইল চাপের মুখে থাকলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর বিশেষ প্রভাব পড়েনি। মূলত আদর্শিক সাদৃশ্য এবং ভারতের ডানপন্থি রাজনীতিতে ইসরাইলকে একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখার প্রবণতা এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তবে ইসরাইলের সঙ্গে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের ভারসাম্য রক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।