মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহ ও ছাত্র-জনতার সেই ঐতিহাসিক সংগ্রাম

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ৫ জুন, যখন তৎকালীন হাইকোর্ট ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে ১ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার নিয়ে মাঠে নামে। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের বর্বরোচিত হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ এই আন্দোলনকে গণবিস্ফোরণে রূপান্তর করে। ১৭ জুলাই থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও আন্দোলন থামানো যায়নি; বরং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সে সময়কার কঠিন পরিস্থিতিতে তৎকালীন বিরোধী দলগুলোও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আন্দোলনরত ছাত্রদের রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানা যায়।

তৎকালীন বৈরী পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭ জুলাই রাতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, যেকোনো মূল্যে এই আন্দোলনকে সফল করতে হবে এবং ছাত্রদের পাশে থাকতে হবে। সেই রাতের আবেগঘন সিদ্ধান্তগুলোই পরবর্তীকালে আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত এক সফল গণঅভ্যুত্থানের দিকে ধাবিত হয় এবং দেশে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এক বছরেই ১০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি, এত খরচ কখনো করেনি বাংলাদেশ

২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: নেপথ্যের ঘটনাপ্রবাহ ও ছাত্র-জনতার সেই ঐতিহাসিক সংগ্রাম

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ৫ জুন, যখন তৎকালীন হাইকোর্ট ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে ১ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার নিয়ে মাঠে নামে। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত মন্তব্যের পর বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের বর্বরোচিত হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ এই আন্দোলনকে গণবিস্ফোরণে রূপান্তর করে। ১৭ জুলাই থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলেও আন্দোলন থামানো যায়নি; বরং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। সে সময়কার কঠিন পরিস্থিতিতে তৎকালীন বিরোধী দলগুলোও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আন্দোলনরত ছাত্রদের রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানা যায়।

তৎকালীন বৈরী পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭ জুলাই রাতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নেতারা এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, যেকোনো মূল্যে এই আন্দোলনকে সফল করতে হবে এবং ছাত্রদের পাশে থাকতে হবে। সেই রাতের আবেগঘন সিদ্ধান্তগুলোই পরবর্তীকালে আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে সহায়ক হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত এক সফল গণঅভ্যুত্থানের দিকে ধাবিত হয় এবং দেশে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হয়।