মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের চার বিদ্যালয়ে পাসের হার শূন্য: শিক্ষার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এসব বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ফলাফল এমন বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। অভিভাবক শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা বছর শিক্ষকরা কী পড়ালেন যে একজন ছাত্রও পাস করতে পারল না? এটা শিক্ষকদের চরম অবহেলারই প্রমাণ।’ তবে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় কুমার সরকার এই ব্যর্থতার জন্য বাল্যবিবাহ এবং শিক্ষার্থীদের শ্রমের সাথে যুক্ত হওয়াকে দায়ী করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে রাজারহাটের ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়েও। সেখান থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাসের খাতা খুলতে পারেনি কেউ। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব এবং প্রস্তুতির ঘাটতিই এই ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ।

এছাড়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলও একই রকম হতাশাজনক। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পাসের হার শূন্য হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকেই নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৫ বছর বয়সেও কীভাবে এত ফিট শ্বেতা তিওয়ারি? জানালেন জিমের আগের ত্বক চর্চার সিক্রেট

কুড়িগ্রামের চার বিদ্যালয়ে পাসের হার শূন্য: শিক্ষার মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৬:৪১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এসব বিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ফলাফল এমন বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। অভিভাবক শহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা বছর শিক্ষকরা কী পড়ালেন যে একজন ছাত্রও পাস করতে পারল না? এটা শিক্ষকদের চরম অবহেলারই প্রমাণ।’ তবে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় কুমার সরকার এই ব্যর্থতার জন্য বাল্যবিবাহ এবং শিক্ষার্থীদের শ্রমের সাথে যুক্ত হওয়াকে দায়ী করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে রাজারহাটের ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়েও। সেখান থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাসের খাতা খুলতে পারেনি কেউ। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সফিকুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব এবং প্রস্তুতির ঘাটতিই এই ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ।

এছাড়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলও একই রকম হতাশাজনক। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পাসের হার শূন্য হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবকেই নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।