মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

অবৈধভাবে অবস্থানরত তিন হাজার ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৮ হাজার ৪৫৩ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ৩,১১২ জনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। বিভিন্ন অজুহাতে নিজ দেশে ফেরত না যাওয়ায় তারা এখন বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এদের একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক শিল্প, বহুজাতিক কোম্পানি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, টেলিকম ও আইটি সেক্টর, বিভিন্ন প্রকৌশল ক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত।

বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা ও থিংক ট্যাংক সংস্থাগুলোর মতে, বৈধভাবে বসবাসরতদের বাইরে বিভিন্ন সেক্টরে আরও কয়েক লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ট্যুরিস্ট বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে এসে পরবর্তী সময়ে ওভার-স্টে (ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থাকা) করার কারণে অবৈধ ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা আরও বেশি। এদের কোনো টিন সার্টিফিকেট নেই। তথ্য মতে, এদের বেশিরভাগ তৈরি পোশাক কারখানা, টেক্সটাইল, প্রযুক্তি খাত, বায়িং হাউস, বিভিন্ন এনজিও এবং লজিস্টিকস খাতে কর্মরত। এসব ভারতীয় নাগরিকরা অবৈধভাবে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিকরা কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া তারা প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের বেশিরভাগই এসেছেন অন অ্যারাইভাল ও ট্যুরিস্ট ভিসায়। যাদের ভিসার মেয়াদ অনেক আগে কিংবা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাদের দ্রুত দেশত্যাগ বা ভিসা রিনিউ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা এ বিষয়ে কর্ণপাত করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব অবৈধ ভারতীয় নাগরিককে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে দ্রুত দেশত্যাগ করেন। যদি না যান, তাহলে ভিসা রিনিউ করার জন্য বলা হয়েছে। ভিসা রিনিউ না করলে তাদের ভারতে ফিরে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক শক্ত উদ্যোগের অভাবের কারণে দেশে অবৈধ নাগরিকের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তবে এর পেছনে কিছু বাস্তবতাও রয়েছে। দক্ষ জনশক্তি না থাকার কারণে অনেক অবৈধ বিদেশি বাংলাদেশে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন এবং সেই সুবাদে এখানে বসবাসও করছেন। এ ব্যাপারে তারা পুলিশকে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। এখানে কিছু অর্থনৈতিক লেনদেনও জড়িত থাকে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে সংঘর্ষের আবহ, রাবিতে সহাবস্থান ধরে রেখেছে ছাত্রদল ও শিবির

অবৈধভাবে অবস্থানরত তিন হাজার ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৮ হাজার ৪৫৩ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ৩,১১২ জনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। বিভিন্ন অজুহাতে নিজ দেশে ফেরত না যাওয়ায় তারা এখন বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। এদের একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক শিল্প, বহুজাতিক কোম্পানি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, টেলিকম ও আইটি সেক্টর, বিভিন্ন প্রকৌশল ক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত।

বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা ও থিংক ট্যাংক সংস্থাগুলোর মতে, বৈধভাবে বসবাসরতদের বাইরে বিভিন্ন সেক্টরে আরও কয়েক লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ট্যুরিস্ট বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে এসে পরবর্তী সময়ে ওভার-স্টে (ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থাকা) করার কারণে অবৈধ ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা আরও বেশি। এদের কোনো টিন সার্টিফিকেট নেই। তথ্য মতে, এদের বেশিরভাগ তৈরি পোশাক কারখানা, টেক্সটাইল, প্রযুক্তি খাত, বায়িং হাউস, বিভিন্ন এনজিও এবং লজিস্টিকস খাতে কর্মরত। এসব ভারতীয় নাগরিকরা অবৈধভাবে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিকরা কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া তারা প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাঠাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের বেশিরভাগই এসেছেন অন অ্যারাইভাল ও ট্যুরিস্ট ভিসায়। যাদের ভিসার মেয়াদ অনেক আগে কিংবা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাদের দ্রুত দেশত্যাগ বা ভিসা রিনিউ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা এ বিষয়ে কর্ণপাত করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এসব অবৈধ ভারতীয় নাগরিককে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তারা যাতে দ্রুত দেশত্যাগ করেন। যদি না যান, তাহলে ভিসা রিনিউ করার জন্য বলা হয়েছে। ভিসা রিনিউ না করলে তাদের ভারতে ফিরে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক শক্ত উদ্যোগের অভাবের কারণে দেশে অবৈধ নাগরিকের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তবে এর পেছনে কিছু বাস্তবতাও রয়েছে। দক্ষ জনশক্তি না থাকার কারণে অনেক অবৈধ বিদেশি বাংলাদেশে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন এবং সেই সুবাদে এখানে বসবাসও করছেন। এ ব্যাপারে তারা পুলিশকে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। এখানে কিছু অর্থনৈতিক লেনদেনও জড়িত থাকে বলে জানা গেছে।