বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নিছক একটি প্রশাসনিক অঞ্চল নয়, বরং এটি ইতিহাস, সীমান্ত, নিরাপত্তা, জাতীয় সংহতি, উন্নয়ন এবং ভূরাজনীতির এক জটিল সংযোগস্থল। এই অঞ্চলে একই সঙ্গে রয়েছে জাতিগত বৈচিত্র্য, সীমান্ত বাস্তবতা, প্রাকৃতিক সম্পদ, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংযোগ, প্রতিবেশী দেশসমূহের কৌশলগত আগ্রহ এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার রাজনীতির প্রভাব।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম: ইতিহাস, পরিচয়, রাজনীতি, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অবস্থান ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারটির আয়োজন করে চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। প্রভাষক আবদুল্লাহ আল মামুন সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) স. ম. মাহবুব-উল-আলম (গবেষণা পরিচালক, ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ), কুমার সুই চিং প্রু সাইন (কমিউনিটি লিডার, খাগড়াছড়ি) এবং নাজমুল ইসলাম চৌধুরী (পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা বিশেষজ্ঞ)।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ উল্লেখ করেন যে, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্নভাবে বোঝা সম্ভব নয়। মিয়ানমারের রাখাইন সংকট, রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি, চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, বঙ্গোপসাগরীয় ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক এনজিও রাজনীতি—সবকিছু মিলিয়ে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক অঞ্চল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে এই অঞ্চলে আন্তঃগোষ্ঠী সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, সীমান্তপারের যোগাযোগ, মাদক, মানবপাচার, তথ্যযুদ্ধ, বিদেশি প্রভাব এবং করিডোর রাজনীতির মতো চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান। আলোচনা সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিরা পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, সমসাময়িক বাস্তবভিত্তিক পরিস্থিতি, সাংবিধানিক অবস্থান এবং বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
রিপোর্টারের নাম 





















