মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

চরম দারিদ্র্যের কশাঘাত: ক্ষুধার জ্বালায় নিজের মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহানা

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রেহানা খাতুন। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানো এই নারী দুই সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভাবের তাড়নায় ঘরভাড়া দিতে না পেরে শেষ সম্বল হিসেবে নিজের চুল বিক্রি করে মাত্র ৫০০ টাকা জোগাড় করেন তিনি।

রেহানা খাতুন আগে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। কিন্তু নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেই আশ্রয়ও তাকে ছাড়তে হয়। বর্তমানে সন্তোষপুর গ্রামের রেলব্রিজের পাশে স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। তবে একবেলার আহার জোগানোই যেখানে দায়, সেখানে ঘর তৈরি করা তার জন্য অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, রেহানা তার অসহায়ত্বের কথা কাউকে বলতে পারছিলেন না। একদিন হঠাৎ তার মাথায় চুল না দেখে কারণ জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান যে, ঘরভাড়া মেটাতে তিনি চুল বিক্রি করে দিয়েছেন। মাতৃত্বের টানে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে তার এই সংগ্রাম স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত করেছে।

রেহানার এই চরম দুর্দিনে তাকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি স্থায়ী ঘর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এই অসহায় পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লব একে অপরের পরিপূরক: সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

চরম দারিদ্র্যের কশাঘাত: ক্ষুধার জ্বালায় নিজের মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহানা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রেহানা খাতুন। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানো এই নারী দুই সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভাবের তাড়নায় ঘরভাড়া দিতে না পেরে শেষ সম্বল হিসেবে নিজের চুল বিক্রি করে মাত্র ৫০০ টাকা জোগাড় করেন তিনি।

রেহানা খাতুন আগে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। কিন্তু নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেই আশ্রয়ও তাকে ছাড়তে হয়। বর্তমানে সন্তোষপুর গ্রামের রেলব্রিজের পাশে স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি। তবে একবেলার আহার জোগানোই যেখানে দায়, সেখানে ঘর তৈরি করা তার জন্য অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, রেহানা তার অসহায়ত্বের কথা কাউকে বলতে পারছিলেন না। একদিন হঠাৎ তার মাথায় চুল না দেখে কারণ জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান যে, ঘরভাড়া মেটাতে তিনি চুল বিক্রি করে দিয়েছেন। মাতৃত্বের টানে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে তার এই সংগ্রাম স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত করেছে।

রেহানার এই চরম দুর্দিনে তাকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি স্থায়ী ঘর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এই অসহায় পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।