জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘যারা ১৮ কোটি মানুষকে দেশে ফেলে বিদেশে অবস্থান করেন তারা দেশপ্রেমিক হতে পারে না। জামায়াতের নেতারা বিদেশ থেকে এসে ফাঁসির মঞ্চে চড়েছেন। তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। অনেক নেতা বিদেশে আছেন, তারা দেশে আসার সাহস পাচ্ছেন না। কারণ ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন, নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশে আসতে হবে। ভয় পাচ্ছেন নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলাম, ছেড়ে এসে যদি প্রধানমন্ত্রী হতে নাই পারলাম, একূল-ওকূল দুই কূল গেলো। এজন্য দেশে আসার সাহস পাচ্ছেন না। কিন্তু আমার এই ভাই মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বিদেশে সব কিছু ফেলে রেখে দেশে এসেছেন আপনাদের সেবা করতে। আমরা তাকে দলীয় প্রার্থী করেছি। আপনারা তাকে বিজয়ী করুন। উনি আপনাদের ছেড়ে যাবেন না।’
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে যশোরের চৌগাছা শাহাদাৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে যশোর-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে সর্বপ্রথম দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে জানিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দেশটা গরিব নয়, সম্পদশালী। আমাদের দেশে চরিত্রবান নেতাদের অভাব। সে কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। আমি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলাম। একটি না, তিনটি ফাঁসি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান, অনেকে বলেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা। সেই আন্দোলনের ফলে মুক্ত হয়েছি। অনেকেই বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি করবে না তার প্রমাণ কী? বিগত দিনে আমাদের দলের দুই মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন। সেখানে সবাই খুঁজেও কোনও দুর্নীতি বের করতে পারেনি। আমরা ক্ষমতায় গেলে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বেকারত্ব দূর করবো। দেশে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা জাকাত আদায় করা সম্ভব। জাকাতভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে সেই টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, আমরা অমুসলিমদের মুসলমান বানাবো। আপনারা দেখেছেন আওয়ামী লীগের আমলে মন্দিরে হামলা করে জামায়াত ও শিবিরকে দায়ী করা হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মন্দির পাহারা দিয়েছেন। সারা দেশে এখন দাড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। এই জোয়ারে ভীত হয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করছে একটি দল। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, আমরা কারও ওপর হামলা করবো না। তবে কেউ হামলা করতে আসলে দুই হাত নিয়ে যেতে পারবে না। এবার আপনারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। যারা আক্রমণ করতে আসবে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে আসবে; তাদের যেমন দুই হাত আছে, আমাদেরও দুই হাত আছে। আমরা দুই হাত দিয়ে তাদের মোকাবিলা করবো। জনগণের ভোট তার পছন্দের প্রার্থীকে দেওয়ার সুযোগ করে দিতে চাই আমরা। এই সুযোগ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’
চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মোর্শেদের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসূল ও যশোর-২ আসনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন।
রিপোর্টারের নাম 




















