মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় নিয়ে দীর্ঘদিনের নির্ভরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই এক ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা জোটে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে দেশ তিনটির মধ্যে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তির শর্তানুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৌশলগত সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই তিন দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন এই চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর ক্রমবর্ধমান অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। রাইস ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিখসেন মনে করেন, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব এখন এককভাবে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তুসি মনে করেন, এই চুক্তির লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা নয়, বরং নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুসংহত করা। তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ও জনবল শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরব নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন ভারসাম্য আনতে চাইছে। এই ত্রিপক্ষীয় জোট মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় যুবদল নেতা বাহাদুর মুন্সির বাড়িতে মধ্যরাতে গুলিবর্ষণ, অল্পের জন্য রক্ষা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস

আপডেট সময় : ০২:৪০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় নিয়ে দীর্ঘদিনের নির্ভরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই এক ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা জোটে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে দেশ তিনটির মধ্যে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তির শর্তানুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৌশলগত সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই তিন দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন এই চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর ক্রমবর্ধমান অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। রাইস ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিখসেন মনে করেন, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব এখন এককভাবে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তুসি মনে করেন, এই চুক্তির লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা নয়, বরং নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুসংহত করা। তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ও জনবল শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরব নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন ভারসাম্য আনতে চাইছে। এই ত্রিপক্ষীয় জোট মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।