আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গণহত্যার দায় স্বীকার করে কারাগারে যাবেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। আমিও বিশ্বাস করতে চাই, উনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক। আইনি পথ ধরে হাঁটুক।’
শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমার বলার একটাই কথা, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি বাংলাদেশকে খুন করেননি, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি খুন, গুম, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সেই সব সত্যের মুখোমুখি যদি তিনি হতে চান, তাহলে অবশ্যই তিনি আসবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ এমন হওয়া উচিত যেখানে একজন গরিব, অসহায় মানুষও ন্যায়বিচার পাবে। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেখানে গেলে মানুষ তার আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারবে, এমন একটি বিচার বিভাগ আমি চাই। তবে, এই বিচার বিভাগে এখনো অনেক সমস্যা বিদ্যমান।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ে আপনার কাছে সমস্যা একরকম, আমার কাছে সমস্যা আরেক রকম। কেউ বলবেন বিচার বিভাগ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে, অনেকেই বলবেন টাউট-বাটপারিতে ছেয়ে গেছে। অনেকেই বলবেন স্ট্রাকচার নেই। আর আমার কাছে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট হলো, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। আমি যদি বিচারককে পেশা হিসেবে বেছে নিই, তাহলে আমাকে ধরে নিতে হবে আমি আর দশটা চাকরির মতোই চাকরি করতে আসছি। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, আমি এখানে এসেছি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, বিধাতা প্রদত্ত সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করার জন্য।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যারা বেশি কথা বলছেন, আপনাদের বলব, একবার বুকের ওপর নিজের হাতটা রেখে বলুন তো, এতগুলো অপরাধের পরেও উনি জনগণের কাছে, মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কিনা? একবারের জন্যও হাসিনার মনে হয়েছে কিনা যে আমরা অপরাধ করেছি?’
মতবিনিময় ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ।
রিপোর্টারের নাম 




















