মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

তনু হত্যা মামলার নতুন মোড়: ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু ও একজনের রক্তের অস্তিত্ব

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক দশক পর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে। আলোচিত এই মামলার জট খুলতে শুরু করেছে, যার মূল সূত্রপাত হচ্ছে ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নতুন তথ্য। ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তনু হত্যাকাণ্ডে ছয়জনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। এ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে চার সাবেক সেনাসদস্য এবং বেসামরিক এক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ জুলাই আদালত নতুন করে আরো দুজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তারা হলেন তনুর বন্ধু কুমিল্লার রাজাপাড়ার ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় তদন্তকারীরা এখনো প্রকাশ করেননি।

ডিএনএ রিপোর্টের সূত্র ধরে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গত এপ্রিলে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এর পরই মামলার দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ এবং সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জাহিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের দাবি, শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে পালিয়ে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে এবং সর্বশেষ লোকেশন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করেছেন, শুরু থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কেন এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই তাকে হত্যা করা হয়। তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, তিনি ‘জিন্দা লাশ’ হয়ে বেঁচে আছেন এবং প্রায়ই অসুস্থ থাকেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দিল্লির আলোচিত যুবক জুনায়েদ

তনু হত্যা মামলার নতুন মোড়: ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু ও একজনের রক্তের অস্তিত্ব

আপডেট সময় : ১২:৩৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ এক দশক পর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে। আলোচিত এই মামলার জট খুলতে শুরু করেছে, যার মূল সূত্রপাত হচ্ছে ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নতুন তথ্য। ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তনু হত্যাকাণ্ডে ছয়জনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। এ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে চার সাবেক সেনাসদস্য এবং বেসামরিক এক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ জুলাই আদালত নতুন করে আরো দুজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ দেন। তারা হলেন তনুর বন্ধু কুমিল্লার রাজাপাড়ার ফয়সাল আহমেদ রাব্বি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। ষষ্ঠ সন্দেহভাজনের পরিচয় তদন্তকারীরা এখনো প্রকাশ করেননি।

ডিএনএ রিপোর্টের সূত্র ধরে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) হাফিজুর রহমানকে গত এপ্রিলে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এর পরই মামলার দুই সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ এবং সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জাহিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের দাবি, শাহীন আলম গত এপ্রিলে গোপনে কুয়েতে পালিয়ে যান। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে এবং সর্বশেষ লোকেশন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করেছেন, শুরু থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ভুয়া ফরেনসিক রিপোর্ট দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কেন এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। ঘটনার দিন তনু সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় টিউশনি করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার পথেই তাকে হত্যা করা হয়। তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, তিনি ‘জিন্দা লাশ’ হয়ে বেঁচে আছেন এবং প্রায়ই অসুস্থ থাকেন।