হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধের তীব্র সময়ে ১০০ ডলারেরও বেশি ছিল।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এক বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ১টা ১০ পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা প্রায় ০.৩৩ শতাংশ বেড়ে ৭৯.৬২ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১২ সেন্ট বা ০.১৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৫.৯০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই দরপতন দ্রুতই ভোক্তাদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এর প্রভাব দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে যানবাহনের জ্বালানি ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামেও প্রভাব পড়ে, কারণ বাজারে পৌঁছানো অধিকাংশ পণ্যই পেট্রোলিয়ামচালিত যানবাহনের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের সূচক ডাও জোন্স নতুন রেকর্ড গড়ে ৫৪ হাজার পয়েন্টের ওপরে লেনদেন শেষ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিবাচক পরিস্থিতির পেছনে শুধু হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরান ও ওমানের চলমান আলোচনাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত সাড়ে পাঁচ মাসে জ্বালানি খাতে একের পর এক ধাক্কা এলেও দেশটির অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফাও শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে সহায়তা করছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনায় সমঝোতা না হলে বাজারের বর্তমান ইতিবাচক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























