আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও স্মরণীয় হয়ে আছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সেই ঐতিহাসিক দিনটি, যখন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার বিদায়ের খবর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। একজন সাংবাদিক হিসেবে সেই খবর সবার আগে প্রকাশ করাকে জীবনের সেরা কাজ হিসেবে দেখেন এক প্রতিবেদক, যিনি সেই সময়কার ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের বর্ণনা দিয়েছেন।
ওই দিন বেলা ১১টার দিকে ঢাকার শনির আখড়া ও যাত্রাবাড়ী থেকে হাজার হাজার মানুষের একটি দল গণভবন অভিমুখে রওনা দেয়। একই সময়ে উত্তরা থেকেও আরেকটি বিশাল জনস্রোত এগিয়ে আসছিল। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং গোটা শহরজুড়ে এক থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল, যেখানে পুলিশের উপস্থিতি ছিল প্রায় শূন্য।
দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা যায়, শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছেন। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত তথ্যে বেরিয়ে আসে যে, এসএসএফ সদস্যরা তাকে অনেকটা জোর করেই সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। কারণ তাদের কাছে খবর ছিল যে, উত্তরা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ এবং যাত্রাবাড়ী থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ এগিয়ে আসছে, যা কোনোভাবেই মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল না।
প্রাথমিকভাবে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গণভবন থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের কাছে পৌঁছানোর পর জানা যায়, বিমানবন্দর এলাকায় জনতার একটি অংশ ঢুকে পড়েছে। ফলে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে তাকে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর দিয়ে হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিদায়ের আগে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিটিভির কারিগরি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় হাতে না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























