মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস: সেনা হস্তান্তরের দাবিতে শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার; শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

রাত ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একই দাবিতে পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা ছাত্রদলের জন্যই বুমেরাং হবে। তিনি বিগত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও টেন্ডারবাজি চালিয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত স্বৈরাচারের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানান।

শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের দখলদারিত্ব, লেজুড়বৃত্তি ও মাস্তানির রাজনীতি দেশের ছাত্রসমাজ আর এক চুলও সহ্য করবে না। তিনি দাবি করেন, এসব হামলা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠান চলাকালে জকসু নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এবং ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের চিহ্নিত ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। এসব হামলায় বহু নেতাকর্মী আহত হন। শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট নিরসন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের মতো বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে প্রক্টর অফিস ও জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তাদের পথ আটকে প্ল্যাকার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলে।

উল্লেখ্য, ইসলামী ছাত্রশিবির জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবি জানালেও, সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল এই কাজে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ভিন্ন মতামতের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

জবি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস: সেনা হস্তান্তরের দাবিতে শিবির, ছাত্রদল চায় ওপেন টেন্ডার; শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

রাত ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একই দাবিতে পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা ছাত্রদলের জন্যই বুমেরাং হবে। তিনি বিগত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও টেন্ডারবাজি চালিয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত স্বৈরাচারের করুণ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান জানান।

শিবির সভাপতি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত এই নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের দখলদারিত্ব, লেজুড়বৃত্তি ও মাস্তানির রাজনীতি দেশের ছাত্রসমাজ আর এক চুলও সহ্য করবে না। তিনি দাবি করেন, এসব হামলা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপন অনুষ্ঠান চলাকালে জকসু নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এবং ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের চিহ্নিত ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালায়। এসব হামলায় বহু নেতাকর্মী আহত হন। শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট নিরসন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের মতো বিভিন্ন যৌক্তিক দাবির প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে চাইলে প্রক্টর অফিস ও জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তাদের পথ আটকে প্ল্যাকার্ডগুলো ছিঁড়ে ফেলে।

উল্লেখ্য, ইসলামী ছাত্রশিবির জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবি জানালেও, সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল এই কাজে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ভিন্ন মতামতের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে অস্থিরতা বিরাজ করছে।