মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: হামলাকারীদের বিচারের দাবি জামায়াতের

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক হামলা, নিপীড়ন ও বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদরাসা এবং গত ৩ আগস্ট রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্মীরা ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপিসহ কার্যনির্বাহী সদস্য, ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পরিবর্তে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসী পথ অনুসরণ করে আধিপত্য বিস্তারের হীন কৌশল অবলম্বন করছে। এর ফলশ্রুতিতে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সশস্ত্র হামলায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আহত শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেও তাদের ব্যাট ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়।

এসব হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, তারা আহত শিক্ষার্থীদের রক্ষায় কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। জামায়াত এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানায়। জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘটিত এসব হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: হামলাকারীদের বিচারের দাবি জামায়াতের

আপডেট সময় : ০৩:০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক হামলা, নিপীড়ন ও বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদরাসা এবং গত ৩ আগস্ট রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্মীরা ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপিসহ কার্যনির্বাহী সদস্য, ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পরিবর্তে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসী পথ অনুসরণ করে আধিপত্য বিস্তারের হীন কৌশল অবলম্বন করছে। এর ফলশ্রুতিতে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সশস্ত্র হামলায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আহত শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেও তাদের ব্যাট ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়।

এসব হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, তারা আহত শিক্ষার্থীদের রক্ষায় কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। জামায়াত এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানায়। জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘটিত এসব হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।