মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

ভারত থেকে আরও ২৯ টন কাঁচামরিচ আমদানি, বাজারে স্বস্তি আসার আশা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ বাড়াতে ভারত থেকে দ্বিতীয় চালানে আরও ২৯ মেট্রিক টন ২২০ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এই চালানটি দেশে প্রবেশ করেছে। এর আগে প্রথম ধাপে ৯.২ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। আমদানিকারকরা আশা করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাজারে মরিচের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমে আসবে।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ভারতীয় একটি ট্রাক ২৯ হাজার ২২০ কেজি কাঁচামরিচ নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে পৌঁছায়। কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বিকেলের মধ্যেই চালানটি খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ইন্টারপ্রাইজ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বেনাপোল কাস্টমস হাউসে জমা দিয়েছে।

আমদানিকারক শাহাজান আলী জানান, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে প্রায় ১৩৫ টাকা ব্যয় হয়েছে। সামান্য লাভ রেখে এটি বাজারে বিক্রি করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে। তবে কাস্টমস জটিলতা, হয়রানি এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক অঞ্চল থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমদানি কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার বেনাপোল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ভারত থেকে নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমতে শুরু করবে। আমদানির নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতি টন কাঁচামরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি প্রায় ২৪ টাকা। এর সাথে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক এবং পরিবহন, বন্দর চার্জ, কাস্টমস প্রক্রিয়াকরণ ও খালাস ব্যয় যুক্ত হওয়ায় আমদানির প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ভারত থেকে দ্বিতীয় চালানে ২৯.২২০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম প্রতিরোধ আইন, ২০২৬: ‘অধিকারের’ গভীর উদ্বেগ, সংশোধনের দাবি

ভারত থেকে আরও ২৯ টন কাঁচামরিচ আমদানি, বাজারে স্বস্তি আসার আশা

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ বাড়াতে ভারত থেকে দ্বিতীয় চালানে আরও ২৯ মেট্রিক টন ২২০ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এই চালানটি দেশে প্রবেশ করেছে। এর আগে প্রথম ধাপে ৯.২ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। আমদানিকারকরা আশা করছেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাজারে মরিচের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমে আসবে।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ভারতীয় একটি ট্রাক ২৯ হাজার ২২০ কেজি কাঁচামরিচ নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে পৌঁছায়। কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বিকেলের মধ্যেই চালানটি খালাসের ব্যবস্থা করা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ইন্টারপ্রাইজ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বেনাপোল কাস্টমস হাউসে জমা দিয়েছে।

আমদানিকারক শাহাজান আলী জানান, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে প্রায় ১৩৫ টাকা ব্যয় হয়েছে। সামান্য লাভ রেখে এটি বাজারে বিক্রি করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে। তবে কাস্টমস জটিলতা, হয়রানি এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক অঞ্চল থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমদানি কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার বেনাপোল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ভারত থেকে নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমতে শুরু করবে। আমদানির নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতি টন কাঁচামরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি প্রায় ২৪ টাকা। এর সাথে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক এবং পরিবহন, বন্দর চার্জ, কাস্টমস প্রক্রিয়াকরণ ও খালাস ব্যয় যুক্ত হওয়ায় আমদানির প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ভারত থেকে দ্বিতীয় চালানে ২৯.২২০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।