মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের শহীদ রাজনের ভাইয়ের জবানবন্দি: ‘ফোনে জানানো হলো আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে’

ঢাকা: জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ ফয়জুল ইসলাম রাজনের বড় ভাই মো. রাজিব। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি এই জবানবন্দি দেন।

রাজিব জানান, তার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩৪ বছর। তিনি কেরানীগঞ্জ উত্তর বাহেরচর এলাকায় বসবাস করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট সময়কালে তিনি মিরপুর-১১ এলাকার একটি প্রিন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। তিনি ছোটবেলা থেকে মিরপুর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাদের দুই ভাই এক বোন। তার ছোট ভাই রাজন ওই সময় মিরপুর-১৩ এলাকার ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন এবং পাশাপাশি একটি কসমেটিক্সের দোকানে কাজ করতেন। ২০২৩ সালে রাজিব কেরানীগঞ্জ এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেন, যেখানে তার মা ও পরিবারসহ বসবাস করতেন। তার ভাই ১৭ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ নেয়।

১৯ জুলাই রাজিব ডিউটি শেষ করে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে যান। বাড়ি যাওয়ার পর তার মা তাকে জানান যে, তিনি ছোট ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দুপুর ১২টার সময় রাজনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। জবানবন্দিতে রাজিব বলেন, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে একজন অপরিচিত মহিলা তার মাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি রাজন মা কিনা এবং তার পাশে কেউ আছে কিনা। এরপর রাজিবের মা তাকে ফোন দিলে তিনি জানান, তার ভাই রাজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাজিব মিরপুর-৬ এ অবস্থানরত তার বোন শান্তাকে মিরপুর আজমল হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলেন। তার বোন শান্তা রাত ৮টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানান, তার ভাই রাজন শহীদ হয়েছেন। ওই সময়ে হাসপাতালের সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করায় তার ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ হাসপাতাল থেকে আনা যাচ্ছিল না। রাত আনুমানিক দেড়টার সময় তার বোনের অনুরোধে একজন অপরিচিত লোক একটি অ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজনের গুলিবিদ্ধ লাশ কেরানীগঞ্জে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। ওই সময় রাজিব তার ভাইয়ের লাশ কাঁধে করে অ্যাম্বুলেন্স থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি ভাইয়ের শরীরে বুকের ডান পাশে একটি বড় গুলির ছিদ্র দেখতে পান, যা বুকের সামনের দিকে লেগে পিঠের দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরদিন ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে তিনি জানতে পারেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে জোহরান মামদানির বিপুল জনপ্রিয়তা: নতুন নেতৃত্বের আভাস

জুলাই বিপ্লবের শহীদ রাজনের ভাইয়ের জবানবন্দি: ‘ফোনে জানানো হলো আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে’

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা: জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ ফয়জুল ইসলাম রাজনের বড় ভাই মো. রাজিব। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তিনি এই জবানবন্দি দেন।

রাজিব জানান, তার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩৪ বছর। তিনি কেরানীগঞ্জ উত্তর বাহেরচর এলাকায় বসবাস করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট সময়কালে তিনি মিরপুর-১১ এলাকার একটি প্রিন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। তিনি ছোটবেলা থেকে মিরপুর এলাকায় বড় হয়েছেন। তাদের দুই ভাই এক বোন। তার ছোট ভাই রাজন ওই সময় মিরপুর-১৩ এলাকার ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন এবং পাশাপাশি একটি কসমেটিক্সের দোকানে কাজ করতেন। ২০২৩ সালে রাজিব কেরানীগঞ্জ এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেন, যেখানে তার মা ও পরিবারসহ বসবাস করতেন। তার ভাই ১৭ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ নেয়।

১৯ জুলাই রাজিব ডিউটি শেষ করে কেরানীগঞ্জের বাড়িতে যান। বাড়ি যাওয়ার পর তার মা তাকে জানান যে, তিনি ছোট ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দুপুর ১২টার সময় রাজনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। জবানবন্দিতে রাজিব বলেন, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে একজন অপরিচিত মহিলা তার মাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি রাজন মা কিনা এবং তার পাশে কেউ আছে কিনা। এরপর রাজিবের মা তাকে ফোন দিলে তিনি জানান, তার ভাই রাজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাজিব মিরপুর-৬ এ অবস্থানরত তার বোন শান্তাকে মিরপুর আজমল হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলেন। তার বোন শান্তা রাত ৮টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানান, তার ভাই রাজন শহীদ হয়েছেন। ওই সময়ে হাসপাতালের সামনে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করায় তার ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ হাসপাতাল থেকে আনা যাচ্ছিল না। রাত আনুমানিক দেড়টার সময় তার বোনের অনুরোধে একজন অপরিচিত লোক একটি অ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজনের গুলিবিদ্ধ লাশ কেরানীগঞ্জে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। ওই সময় রাজিব তার ভাইয়ের লাশ কাঁধে করে অ্যাম্বুলেন্স থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি ভাইয়ের শরীরে বুকের ডান পাশে একটি বড় গুলির ছিদ্র দেখতে পান, যা বুকের সামনের দিকে লেগে পিঠের দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে। পরদিন ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে তিনি জানতে পারেন।