বিগত বছরগুলোতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক অফিস সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ও প্রাইভেট শিক্ষক মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিগত ৩১ জুলাই থেকে তার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হয়েছিল বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জলিলুর রহমান ইংরেজি বিষয়ের প্রাইভেট শিক্ষক হিসেবেও শিক্ষার্থীদের বাসায় পড়াতেন। সেসময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিগত ২৬ জুলাই তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগেও তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠলেও তখন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর বিগত ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শেখ মো. মাঈনুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতেই সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আসে।
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মচারীর কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন সেসময় জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা বিধি অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত জলিলুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার সেসময়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় সেসময় পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















