ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

গৌরনদীর আলোচিত ব্লেড কাণ্ড: রুটিতে ছাত্রী নিজেই ঢুকিয়েছিল ব্লেড, শিক্ষিকা বরখাস্ত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বরিশালের গৌরনদীতে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই ঘটনাটিকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খাবার সরবরাহকারী কোম্পানির কোনো গাফিলতি কিংবা রুটির মধ্যে কারখানা থেকে ব্লেড আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, স্কুলের এক শিক্ষার্থী নিজেই রুটির মধ্যে ব্লেড ঢুকিয়ে দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই না করে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্লেডযুক্ত রুটির ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখ, যিনি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন, তিনি জানান, গত বুধবার দুপুরে প্রতিবেদনটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম সেসময় বলেছিলেন, ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যেই কারখানা থেকে রুটি সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই কারখানাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে রুটি তৈরির প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ব্যবহারিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেন যে, কারখানা থেকে অক্ষত অবস্থায় এমন একটি ব্লেড রুটির ভেতরে আসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তদন্তে উঠে আসে যে, ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ভুলক্রমে একটি ব্লেড তার ব্যাগে নিয়ে আসে। শিক্ষিকার শাস্তির ভয়ে সে ব্লেডটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে রুটি খাওয়ার জন্য ভাঙার সময় পিছন থেকে জান্নাত নামের এক ছাত্রী ব্লেডটি দেখে ফেলে। তখন প্রথম ছাত্রীটি এই আশঙ্কায় যে জান্নাত শিক্ষিকাকে বলে দেবে, নিজেই শিক্ষিকার কাছে গিয়ে রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার কথা জানায়।

এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা কোনো যাচাই-বাছাই না করেই ব্লেডযুক্ত রুটির ছবি তুলে শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপে এবং পরবর্তীতে সদর ক্লাস্টার গ্রুপে ছড়িয়ে দেন। তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামালও যাচাই-বাছাই না করে ছবি ছড়ানোর বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

গৌরনদীর আলোচিত ব্লেড কাণ্ড: রুটিতে ছাত্রী নিজেই ঢুকিয়েছিল ব্লেড, শিক্ষিকা বরখাস্ত

আপডেট সময় : ০৯:১৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বরিশালের গৌরনদীতে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই ঘটনাটিকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খাবার সরবরাহকারী কোম্পানির কোনো গাফিলতি কিংবা রুটির মধ্যে কারখানা থেকে ব্লেড আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, স্কুলের এক শিক্ষার্থী নিজেই রুটির মধ্যে ব্লেড ঢুকিয়ে দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই না করে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্লেডযুক্ত রুটির ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার শেখ, যিনি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন, তিনি জানান, গত বুধবার দুপুরে প্রতিবেদনটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম সেসময় বলেছিলেন, ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যেই কারখানা থেকে রুটি সরবরাহ করা হয়েছিল, সেই কারখানাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে রুটি তৈরির প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ব্যবহারিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেন যে, কারখানা থেকে অক্ষত অবস্থায় এমন একটি ব্লেড রুটির ভেতরে আসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

তদন্তে উঠে আসে যে, ওই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ভুলক্রমে একটি ব্লেড তার ব্যাগে নিয়ে আসে। শিক্ষিকার শাস্তির ভয়ে সে ব্লেডটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে রুটি খাওয়ার জন্য ভাঙার সময় পিছন থেকে জান্নাত নামের এক ছাত্রী ব্লেডটি দেখে ফেলে। তখন প্রথম ছাত্রীটি এই আশঙ্কায় যে জান্নাত শিক্ষিকাকে বলে দেবে, নিজেই শিক্ষিকার কাছে গিয়ে রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার কথা জানায়।

এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা কোনো যাচাই-বাছাই না করেই ব্লেডযুক্ত রুটির ছবি তুলে শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপে এবং পরবর্তীতে সদর ক্লাস্টার গ্রুপে ছড়িয়ে দেন। তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামালও যাচাই-বাছাই না করে ছবি ছড়ানোর বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন।