বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এইচআরডব্লিউর কোনো প্রতিনিধি ট্রাইব্যুনাল বা তদন্ত সংস্থার সাথে যোগাযোগ না করেই এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং এটি অভিযুক্তদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে বলে তার ধারণা।
গত বুধবার ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে ট্রাইব্যুনালের বিচারের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে আসামিদের বিরুদ্ধে বারবার প্রায় একই ধরনের অভিযোগ আনার অভিযোগের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেখানে শত শত মানুষকে শহীদ করা হয়েছে, সেখানে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজনের বিচার হচ্ছে। পরবর্তীকালে যখন অন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হবে, তখন মামলার বক্তব্য এবং অভিযোগ কাছাকাছি হওয়া স্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, এইচআরডব্লিউ যাদের রেফারেন্স দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তারাও ভুল ধারণা পোষণ করছেন। সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে একই ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সুতরাং, অভিযোগের ধরন একই রকম হওয়া স্বাভাবিক। যা ঘটেছে, সাক্ষীরা তো সেটাই বলবেন, ভিন্ন কিছু নয়।
একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল জানান, অভিযোগ ওঠার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যিনি ঘুষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তিনি প্রসিকিউটরের সাথে এক-দুবার নয়, ২৪ বার কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, তার উদ্দেশ্য ছিল ট্রাইব্যুনালের বিচারকে বিতর্কিত করা। চিফ প্রসিকিউটর প্রশ্ন তোলেন, একজন ঘুষ অফার করলেন আর অন্যজন চাইলেন – তাহলে দুজনেই তো সমানভাবে দায়ী।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও যদি তারা সন্তুষ্ট না হন এবং নির্দিষ্ট আসামির পক্ষে সাফাই গেয়ে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, তাদের তদন্ত সংস্থায় ২৪ জন সিনিয়র কর্মকর্তা কাজ করছেন এবং তারা ৩৮ বছর ধরে এই ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ।
রিপোর্টারের নাম 





















